দিন যতো যাচ্ছে ততই ভারসাম্য হারাচ্ছে জাতীয় সংসদ। যার পূর্ণ দখল নিতে যেন মরিয়া হয়ে উঠছেন ব্যবসায়ীরা। অতীতের সংসদের দিকে তাকালে তার একটা স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়। এবারের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি খুব একটা।
তথ্য বলছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর ১৮ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। এরপর ১৯৯১ সালে সংসদে সেই সংখ্যা দাড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি। তখন পর্যন্ত সংসদে রাজনীতিবিদ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের একটা ভারসাম্য থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে ততই এ সংখ্যা বেড়েছে। সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ৫৯ শতাংশের বেশি ব্যবসায়ী। সংখ্যার হিসেবে যা ১৭৪ জন।
এরমধ্যে বিএনপির ২০৯ জনের মধ্যে ব্যবসায়ী রয়েছেন ১৪৫ জন, যা দলের মোট জয়ী প্রার্থীর ৬৯ শতাংশ। জামায়াতের ৬৮ জনের মধ্যে ব্যবসাকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ২০ জন। যা দলের মোট জয়ী প্রার্থীর ২৯ শতাংশ। এনসিপির ছয়জনের মধ্যে দুজন এবং স্বতন্ত্রদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৯ ব্যবসায়ী।
আরও পড়ুন:
দেশের অর্থনীতির এই ক্রান্তিলগ্নে ব্যবসায়ী নির্ভর সংসদে সংকট থেকে উত্তরণের খুব একটা সুযোগ নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই অর্থনীতি বিশ্লেষক বলছেন, রাজস্ব আহরণে প্রধানতম চ্যালেঞ্জই হবেন ব্যবসায়ী সাংসদরা।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক বলেন, ‘যে দেশে রাজস্ব আয় কম সে দেশে যদি ব্যবসায়ীরা আইন প্রণয়ন করে তাহলে তো রাজস্ব আয় বাড়ার সম্ভাবনা আমি দেখছি না। কারণ ব্যবসায়ীরা চাইবে কর অব্যাহতি। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করে ট্যাক্স ইস্যু বাড়ানো, কর অব্যাহতি কমানো। কারণ বার বার কর অব্যাহতি দেয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে সম্ভব না।’
একই কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। একই সাথে সংকট থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরামর্শ তার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫তম অর্থনীতির দেশ। অতএব সেক্ষেত্রে এই বোর্ডটা কিভাবে গঠন করা যায় সে জায়গায় অর্থনীতির যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রের বড় ধরনের সিদ্ধান্তগুলো যদি আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কে দেন তাহলে কিন্তু সে জায়গাগুলো আরও সুন্দর হয়।’
ব্যবসায়ী হোক আর রাজনীতিবিদ হোক, সংসদ হবে জনতার এমনটিই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।





