Recent event

যুগ্ম জজ থেকে মন্ত্রী হলেন রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান

দীপেন দেওয়ান
দীপেন দেওয়ান | ছবি: এখন টিভি
0

রাঙামাটির সন্তান অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ। আর এখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি শপথ নেন। তবে তার এই সফলতার শিখরে উঠতে পাড়ি দিতে হয়েছে রাজনীতির কঠিন পথ। দায়িত্ব পেয়েই সর্বক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক সুষম উন্নয়নে পার্বত্যবাসী সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তিনি।

দীপেন দেওয়ান রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় আসার সুযোগ পান বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে। সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে ২০০৫ সালে যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। কিন্তু তখনকার রাজনীতির চড়াই-উৎড়াইয়ের কারণে নির্বাচন না হয়ে এক এগারো (ওয়ান ইলেভেন) সৃষ্টি হলে আটকে যায় তার ভাগ্য। ওয়ান ইলেভেন সরকারের নতুন নির্বাচনি আইনের ফাঁদে আটকে পড়ে মাত্র তিন মাসের মেয়াদের জন্য ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান।

এরপর ২০১০ সালে দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। আর ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙামাটি বিএনপির একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে গেছেন। অবরোধ, মিছিল, মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েরও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান অবশেষে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:

দীপেন দেওয়ান প্রথমবার এমপি নির্বাচনেও দেখিয়েছেন চমক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি আসনের প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ৭০ হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ৮৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট।

দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পালনের চেষ্টা করবো। সর্বক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলবো আমি। অর্থনৈতিক সুষম উন্নয়ন থাকবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না উন্নয়নের ক্ষেত্রে। এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মহিলাদের কর্মসংস্থান, যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবো। আমি পার্বত্যবাসী সবাইকে নিয়ে কাজ করবো। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’

অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের প্রয়াত পিতা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতি বিষয়ক উপদেষ্টা।

এসএস