মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা যদি আজকে কাজে না লাগে, আমাদের মতো বয়সের ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা যদি কাজে না লাগে, আমার ছেলে যদি আমার অভিজ্ঞতা কাজে না লাগায়, সে জীবনে কিছু করতে পারবে না। এটা হলো বাস্তবতা।’
তিনি বলেন, ‘এখন কিছু ছেলেপেলে জুটেছে, হঠাৎ করে আঙুল ফুলে কলা গাছ, লম্বা লম্বা কথা বলে। কোনো কথা নাই, ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর নাম নেয় কি না আমি জানি না ভাই। আমার নাম প্রথম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নেও, নামাজ পড়ো। তারপর বাড়ি থেকে বের হও কাজ করতে।’
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তুমি তো চাঁদপুর থেকে সেদিন আসছো ঢাকায়। আর এই এলাকার লোক বহুদিন যাবৎ এ এলাকায় বসবাস করে। তারা আমার সম্পর্কে যা জানে, তুমি তার কিছুই জানো না। সুতরাং লম্বা লম্বা কথা বলো না। এই ঢাকা শহরের একটা ব্যক্তি বলতে পারবে না কোনো স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে এক কাপ চা খাওয়াইতে পারছে তারা।’
এসময় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে সরকারের সমালোচনা করেন। দেশের মানুষ স্বস্তিতে নেই বলেও জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এমন একটা অবস্থানে আমরা আছি এখন, এটা একেকজনের ব্যাখ্যা একেকরকম হতে পারে। ভালো আছি না খারাপ আছি? আমার ব্যাখ্যা হলো আমরা আগে যা ছিলাম হাসিনার সময়, এখন একটা জায়গায় ভালো আছি যে, আমাদের পুলিশ উপদ্রব করে না। আর কোনো দিক থেকে কিন্তু আমরা ভালো নেই। বাংলাদেশের জনগণ স্বস্তিতে নেই, শান্তিতে নেই, বরং একটা অস্বস্তির মধ্যে আমরা দিন কাটাচ্ছি। হাসিনা পরবর্তী সময়টা আমরা যতটা ভালো থাকতে চেয়েছিলাম, আমরা ততটা ভালো থাকতে পারিনি, এটা আমরা দুর্ভাগ্য।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘অনেক যুদ্ধ করে আমরা নির্বাচন আদায় করেছি। অনেক রক্তের বিনিময়ে, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা এ নির্বাচন আমরা আদায় করেছি। কেউ এ নির্বাচন দান করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমাদের কেউ দান করেনি, এ নির্বাচনও আমাদের কেউ দান করেনি।’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি বিএনপি গড়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন মির্জা আব্বাস। গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কারো একার না, এটি সারা দেশের মানুষের বলে জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, বিশেষ করে কিছু ছেলেপেলে মনে করেন, চব্বিশের পর তারা সবকিছু উদ্ধার করে ফেলেছে। আরে বাবা, তাহলে আমরা ১৭ বছর কী করলাম? ১৭ বছর যে আমাদের পাঁচ হাজার কর্মী গুম হলো, চার হাজার শাহাদাৎ বরণ করলো, আমরা যে জেল খাটলাম, কী করেছি আমরা? আমরা তোমাদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছি। একটা ফাউন্ডেশনের মধ্যে দাঁড়িয়ে তোমরা আন্দোলন করেছো, সে আন্দোলনকে আমরা সমর্থন দিয়েছি এবং সে আন্দোলনে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার জন্য শুধু তোমাদের কৃতিত্ব, এটা ভাবা অত্যন্ত ভুল। এটা দেশের মানুষের কৃতিত্ব। সারা দেশের জনগণ এ ব্যাপারে কাজ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ভোটের অধিকার কেউ দান করেনি, আমরা আদায় করেছি। এ ভোটের অধিকার আমাদের প্রয়োগ করতে হবে। এই ভোট দিতে গেলে সেখানে একটা সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করছি। একটা দল শুনলাম, তারা না কি ৪০ লাখ বোরখা বানাইছে। অর্থাৎ পুরুষরা মহিলার ভোট দিতে যাবে, এমন হবে। যদি হয়, এটা আপনাদের ধরে ফেলতে হবে। বোরখা পড়া মহিলাদের শ্রদ্ধা করি, আমার মা-বোনরা পড়তেন। কিন্তু বোরখা পড়ে ফলস-ভোট দিতে আসবেন, এটা আমরা সহ্য করবো না।’





