চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের মতবিনিময়

মতবিনিময় সভা
মতবিনিময় সভা | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতৃবৃন্দ। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) নগর জামায়াত কার্যালয়ে ইইউর পলিটিক্যাল এনালিস্ট মার্সেল ন্যাগি, লিগ্যাল এনালিস্ট এরিনি গোউনারির সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ দেশের সার্বিক নির্বাচনি পরিবেশ, রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য তারা গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে এসেছেন।

মতবিনিময় সভায় নগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশের আইন-কানুন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের নারী জনশক্তিরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীরা হামলা, অবমাননা ও শারীরিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।’

তিনি আরও জানান, ‘নারীদের নিরাপত্তা দাবি ও দেশব্যাপী তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি মহিলা মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।’

এছাড়াও, তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের আটজন কর্মী আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:

নগর আমির আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষা, অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক খাতে আমরা ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতাসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংকট নিরসনেও আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ জামায়াতের নারী নেত্রীদের কাছে তাদের গণসংযোগ কার্যক্রম ও জনসাধারণের সাড়া সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে নারী নেত্রীরা জানান, তারা ঘরে-ঘরে গিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছেন।

মতবিনিময় সভায় নগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।’

এ সময় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী শফিউল আলম।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদা খানম, নগর সহকারী সেক্রেটারি আয়েশা পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদিকা শিরিন জাহান ও উম্মে ফাতেমা।

এফএস