বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী দল: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | ছবি: এখন টিভি
0

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধর্মে বিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি) সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর আইডিডিবিতে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। বিএনপি নির্বাচন চায় এবং জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখে। জনগণ চাইলে আমরা সরকার গঠন করব, না চাইলে বিরোধী দলে থাকবো।’

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ২০২২ সালেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে এবং ৩১ দফা ঘোষণা করেছে। আজ যেসব সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তার অধিকাংশই আমাদের প্রস্তাবনায় ছিল।’

ধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী দল। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার কথা ঘোষণা করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান হলো— বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে জাতিকে একটি আলাদা পরিচয় দেয়া। পৃথিবীতে বাঙালি জাতি অন্যত্রও আছে, কিন্তু এ ভূখণ্ডের মানুষের পরিচয় তিনি বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দেশকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন— কখনো কারও কাছে মাথা নত না করতে এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পতাকা কখনো নিচে নামতে না দিতে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহিদ জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার পর অনেকেই ভেবেছিল বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই পতাকা আবার তুলে ধরেন। খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পরও অনেকে ভেবেছিল দল দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু, আল্লাহর ইচ্ছায় সেই পতাকা আবার তুলে ধরেছেন দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে চীন সফরের একটি স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বলেছিলেন “ক্যারি দ্য ফ্ল্যাগ অব ইউর ফাদার অ্যান্ড মাদার”। মহান আল্লাহর কি ইচ্ছা দেখেন, আজকে আবার তারই হাতে এ পতাকা চলে এসেছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে জনগণ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান প্রথমেই বলেছিলেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং দেশে শান্তি ও সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একদিকে একটি পক্ষ শুধু হুমকি, হত্যা ও দমন-পীড়নের ভাষা ব্যবহার করে, অন্যদিকে আমাদের নেতা জনগণের জন্য পরিকল্পনার কথা বলেন— এটাই পার্থক্য।’

সহনশীলতার বিষয়ে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যখন দেশ অস্থিরতার আশঙ্কায় ছিল, তখন তিনি প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।’

আরও পড়ুন:

জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে এনেছিলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং রাষ্ট্রকে সম্ভাবনাময় পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়েই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।’

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু , বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এসএস