ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান তিন রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ তিন নেতা ঢাকায় নির্বাচন করার ঘটনা রাজধানীর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নানা হিসেব নিকেশের জন্ম দিচ্ছে। দলগুলোও মরিয়া হয়ে শীর্ষ নেতাদের বিজয়ী করতে কৌশলী হচ্ছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন করছেন ঢাকা-১১ আসন থেকে। নতুন প্রতীকে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও এ আসনে দলের শীর্ষ নেতাকে জয়ী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে দলটি। প্রচারণার কৌশল হিসেবে ভোট পেতে ভোটারদের কাছে নাহিদ ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দেয়া আছে গণঅভ্যুত্থানের এক দফার ঘোষক হিসেবে।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের নির্বাচন সমন্বয়কারী ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছি। মানুষের কাছে যাচ্ছি। নাহিদ ইসলাম ভাই তার জনগণের কাছে যাচ্ছে তার নির্বাচনি এলাকার। এখানে ধানের শীষ হোক বা অন্য কোনো মার্কার যারাই অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক না কেন নাহিদ ইসলাম নিজেই একজন কালের মহানায়ক।’
ঢাকা ১৫ আসনে লড়ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ আসনে তিনি আগেও নির্বাচন করায় দলটির নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক আছে বলে মনে করেন জামায়াত আমিরের নির্বাচন সমন্বয়কারী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল সাজাচ্ছে দলটি। জামায়াত সরকারে গেলে আমিরের কারণে ভোটাররা আলাদা গুরুত্ব পাবে বলে ভোটারদের বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছেন কর্মীরা।
আর পড়ুন:
ঢাকা ১৫ আসনে জামায়াত আমিরের নির্বাচন সমন্বয়কারী মোবারক হোসাইন বলেন, ‘ডা. শফিকুর রহমান যেহেতু দলের প্রধান, সে হিসেবে জামায়াত যদি পাওয়ার শেয়ার করে তাহলে উনি বড় একটি জায়গায় যাবেন। এটি মানুষের একটি প্রত্যাশা এরইমধ্যে তৈরি হয়েছে। জনসাধারণের কাছে যাওয়ার জন্য যতগুলো মেকানিজম আছে জামায়াতের সবগুলো মেকানিজম জামায়াত সেখানে ব্যবহার করেছে।’
প্রায় একই কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে তারেক রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও দলের সর্বোচ্চ নেতাকে জয়ী করতে সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানায় ঢাকা ১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী। বিএনপি সরকারে গেলে এখানের ভোটাররা প্রধানমন্ত্রী পাবেন বলে প্রচারণার কৌশল নিচ্ছে দলটি।
ঢাকা ১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান তো এখানে প্রার্থী ছিলো না। তাকে এনে চেয়ারম্যান বানিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে দল এবং প্রার্থীদের অনুরোধে তিনি এখানে প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপি যদি জয়লাভ করে তাহলে তারেক রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেক্ষেত্রে এলাকার সবাই মনে করে আমি দলের প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিলাম।’
দলীয় প্রধানদের ঢাকা থেকে নির্বাচন করার বিষয়টিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেখছেন রাজধানী কেন্দ্রিক দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে। দলীয় প্রধানরা অন্যান্য প্রার্থীদের মতো একই পদ্ধতিতে প্রচারণা চালালে পরাজয়ের শঙ্কা থাকবে বলে মনে করছেন ড. শিব্বির আহমদ।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. শিব্বির আহমদ বলেন, ‘এ ক্যান্ডিডেটদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এ ভোটারদের কনভেন্স করা। আমি বিজয়ী হলে বাংলাদেশ ভালো থকবে এ কনফিডেন্স ভোটারদের দিতে হবে। প্রথমত দলীয় প্রধান হয়েও হেরে গেলো অন্য প্রার্থীর কাছে। দ্বিতীয়ত দলের জন্য এটি একটি ইমেজ ক্রাইসিস যেটি শেখ হাসিনার কাছে হয়েছিলো। শেখ হাসিনা অন্যান্য আসনে জিতেছে কিন্তু ঢাকার একটি আসনে হেরে গিয়েছে।’
বাস্তবতা হলো রাজধানীতে ভোটারদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকায় দলীয় প্রধানকে বিজয়ী করে আনা দলগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।





