নগরের জমিয়াতুল ফালাহ'র ঈদ জামাতের সামনের সারির দৃশ্যপটে নতুন মুখের ছড়াছড়ি। সোমবারের (৩১ মার্চ) এই ঈদগাহ ময়দান জানান দিচ্ছে চট্টগ্রামের রাজনীতির ময়দানেও এখন নতুন চরিত্রের আবির্ভাব। যাদের অনেকের কাছেই গত বছরও হয়তো এমন দৃশ্য ছিল কল্পনাতীত। তবে রাজনীতির আজব খেলায় যেই হিসেব পাল্টে গেছে, সেই পাল্টানো পালে হাওয়া দিচ্ছে এবারের ঈদ। যাকে কেন্দ্র করে গতি পেয়েছে নির্বাচনের মাঠ গোছানোর আয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে এবারের প্রধান ঈদ জামাতে দেখা যায় বিএনপির অনেক নতুন-পুরনো মুখকে। সাথে জামায়াত নেতাদের সরব উপস্থিতিও ঈদের ময়দানে ছড়িয়েছে রাজনীতির উত্তাপ। দীর্ঘদিন রাজনীতির কেন্দ্র থেকে দূরে থাকলেও এবারের ঈদ তাদের জন্য নিয়ে এসেছে নতুন বার্তা।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, 'কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই এবার পরিপাটিভাবে রমজানও হয়েছে। এবং নির্বিঘ্নে ঈদটাও আমরা সম্পন্ন করেছি। এটার জন্য আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া। এবং দেশবাসীকেও ঈদের শুভেচ্ছা।'
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'ভোটের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে দ্রুত সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। এবং এই খোটের অধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশের মানুষের মূোলক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার যেন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।'
জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মো. শাহজাহান চৌধুরী বলেন, 'সমস্ত ভেদাভেদ এবং সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে, গামী দিনে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আজকে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানাই।'
অন্তর্বর্তী সরকারের দিনক্ষণ অনুযায়ী হলে ভোট বেশি দূরে নয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন নিজ নিজ এলাকায়। জনসংযোগের পাশপাশি মোড়ে মোড়ে চোখে পড়ছে তাদের ব্যানার ফেস্টুন।
এই দৌড়ে বেশ এগিয়ে বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব। বিশেষ করে সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রামের ডাকসাইটে রাজনীতিবিদ বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান, বার্ধক্যে জর্জরিত সাবেক মন্ত্রী মীর নাছিরের ছেলে মীর হেলালের ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরের অনেক এলাকা। পিছিয়ে নেই আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবুল হাশেম বক্করের মতো বিএনপির পুরনো নেতারাও।
সাঈদ আল নোমান বলেন, 'স্বপ্নের বাংলাদেশ পাইনি। অতএব অনেক কাজ বাকি। এই ঈদও সবার জন্য সমান নয়। আমার জন্য হয়তো কিছুটা দুঃখের, রও অনেকের জন্য হয়তো আরও অনেক বেশি দুঃখের। তাই আমরা যারা ভালো আছি, তাদের চিন্তা করতে হবে সেই দুঃখী মানুষের কথা।'
নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, 'গণতন্ত্রের জন্য, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য, ইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছে। এই আইনের শাসন যেন প্রতিষ্ঠা করে এবটি সুস্থ নির্বাচনের ধারায় ফিরে এসে জনগণের মালিকানা, রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণকে যেন ফিরিয়ে দেয়া হয়।'
চট্টগ্রামের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ভোটের মাঠ গোছাতে ব্যস্ত বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনীতির এই উর্বর মাঠে নিজেদের জানান দিতে চলছে তাদের জনসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা। বিশেষ করে পোস্টার ব্যানারের ঈদ শুভেচ্ছায় জনতার মনে জায়গা করে নিতে চলছে প্রতিযোগিতা।