দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ (শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোণার ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে জামায়াতে ইসলামীর জেলা কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ১৫ বছর অপেক্ষা করতে পারি নির্বাচন দুই মাস ছয় মাস আগে হবে না পরে হবে, আগে প্রশাসনকে পরিচ্ছন্ন করে সংস্কার করে হবে। যেহেতু নির্বাচন করতে সময় লাগবে জামায়াতে ইসলামী সেই সময় দিতে প্রস্তুত আছে। আমরা তাড়াহুড়োর পক্ষে নই। আমরা অন্তর্বর্তীসরকারের প্রধানকে বলতে চাই আপনি নির্বাচনের জন্য যে সম্ভাব্য ডেটলাইন আইডিয়া দিয়েছেন, এর মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করুন, খুনিদের বিচার নিশ্চিত করুন। তারপর আপনি নির্বাচনের ডেটলাইন ঘোষণা করুন। সেই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সমর্থন করবে।’
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যদি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করে, নতুন নতুন উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থির করতে চায় বুঝতে হবে এরা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়। এরা আমাদের দেশ প্রেমিক ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে সম্মান জানাচ্ছে না। এদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। এজন্য আমরা সরকারকে বলছি জনগণ আপনাদের সাথে রয়েছে। দেশকে আপনি শান্ত রাখুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘হাসিনার ইচ্ছা ছিল আজীবন ক্ষমতা চালাবে। ইসলামপন্থী দল নিষিদ্ধ করবে, জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করবে। কিন্তু আল্লাহতাআলা তার ইচ্ছা পূরণ করতে দেন নি।’
বিভিন্ন এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের দোসরা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তারা বসে আছে। ১৫ বছর বিএনপির জামাত ইসলামী আন্দোলনসহ সবাই আমরা আন্দোলন করেছি ভোটাধিকারের জন্য কিন্তু কোনো দাবি মানে নাই বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে নেত্রকোণা জেলা আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক প্রধান ড. সামিউল হক ফারুকীসহ প্রমুখ।
এদিকে সম্মেলন ঘিরে সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জেলার ১০ উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন নেত্রকোণা মোক্তারপাড়া মাঠে।