আজ (শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুব বিভাগের আয়োজনে সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আজকে এই জাতি ঐক্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে ফ্যাসিবাদ যত শক্তিশালী হোক, যত আক্রমণাত্মক হোক, যত খুন আর গুম করুক, যতগুলো আয়নাঘর তৈরি করুক, যতগুলো ক্রসফায়ার করুক কোন কিছু দিয়ে তাদের শেষ করা সম্ভব হয়না। এই জাতি যখন জেগে উঠে তখন আর তাদের দমাতে কেউ পারে না।'
যুব বিভাগ মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্ব ও সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মুর্শেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, সাবেক জেলা আমীর মো. আব্দুল মান্নান, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ তাজুল ইসলাম, রাজনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুর রাইয়ান শাহিন।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, '২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে একটি নিয়মতান্ত্রিক বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো, জাতীয় সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো, ছাত্রসমাজ, যুবসমাজকে আমাদের সবকিছুকে ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। লুটপাট যা করেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এসেছে। প্রতি বছর তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটপাট করেছে। টাকার হিসেবে যা ২৮ হাজার কোটি টাকার উপরে।'
তিনি আরো বলেন, 'আজকে যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, মাদক তুলে দেওয়া হয়েছে, যুবকদের জাতি বিনাশী সমস্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা আমাদের যুব সমাজকে অস্ত্র মুক্ত, মাদক মুক্ত করতে চাই। তাদেরকে নৈতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করে জাতি এবং রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই।'
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, 'ফ্যাসিবাদ যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যে গুম খুন করেছে, জাতির উপর যে ভয়ংকর দানবের মতো চেপে বসেছিল এই ফ্যাসিবাদের বিচার হবে। আমাদের যারা আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন গত ১৫ বছরে যারা শহীদ হয়েছেন বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন সেই ফ্যাসিবাদের বিচার করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'ফ্যাসিবাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। যারা আমাদের সম্পদ পাচার করেছেন তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সম্পদকেও ফিরিয়ে আনা হবে।'
ফ্যাসিবাদের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সমস্ত সন্ত্রাসীদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা এখনও আমাদেরকে হুংকার দেয়। দেশে ঢুকবো, খুন করবো, গুম করবো, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিবো। তারা এখনও এই জাতির শক্তি দেখে নাই। এই ফ্যাসিবাদকে দেশীয়, আন্তর্জাতিকভাবে, ডিপ্লোমেটিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে বলেও জানান তিনি।