ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠেন শহরে বেড়ে ওঠা কনিকা ও তার বন্ধুরা। ব্যস্ত জীবনে ফুরসত না মেলায় এমন মুখরিত আড্ডা হয় না বললেই চলে। তাইতো ঈদের এই ছুটিতে সুযোগ মেলায় একত্রিত হয়েছেন সবাই।
কনিকা বলেন, 'আজকে অনেক ভালো লাগছে। নরমালি তো বন্ধুদের সাথে দেকা করার সুযোগ পাই না। একেকজন একেক ভার্সিটিতে থাকে। সবাই পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকি। আজকে অনেক ভালো লাগছে একসাথে।'
কনিকার মতো আরও অনেকেই ঈদের ছুটি উদযাপন করতে বন্ধুবান্ধব, পরিবার, পরিজন নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও ক্যাফেতে। গল্প আর স্মৃতি রোমন্থনে ব্যস্ত সবাই। একই চিত্র নগরীর পাঁচ তারকা হোটেলও। বাইরে তীব্র গরম থাকায়, ঈদ বিনোদনের অনেকেরই প্রথম পছন্দ ছিল রেস্তরাঁগুলো। আর একসাথে সময় কাটাতে পেরে উচ্ছ্বসিত সবাই।
রেস্তরাঁয় আসা একজন নারী বলেন, 'ঢাকার যে ভাইবটা যেটা, সারাবছর প্রচণ্ড জ্যামে থাকি। একটা গুমোট ভাব থাকে সবসময়, যেটা এখন একদমই নেই।'
একজন পুরুষ বলেন, 'পরিবার নিয়ে ঘোরার আনন্দটা আসলে অন্যরকম। কারণ আমরা যারা জব করি, সাধারণত পরিবারকে সময় দিতে পারি না। ঈদের দিনটাই আসলে মরা পরিবারের জন্য ফিক্সড করে রাখি। এসময়টাই পরিবার নিয়ে যেখাণে খুশি সেখানে ঘরবো।'
দীর্ঘসময় পর এবার লম্বা ছুটি পেয়েছেন দেশবাসী। ফলে প্রতিদিনের জন্যই থাকছে আলাদা পরিকল্পনা। একইসাথে নগরীর রাস্তাঘাট নির্ঝঞ্ঝাট থাকায় সবার কণ্ঠেই ছিল স্বস্তির সুর।
তবে নিজেদের ঈদ বিসর্জন দিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেয়ার জন্য কোনোকিছুই কমতি রাখেনি রেস্তরাঁ ও ক্যাফে কর্তৃপক্ষ। বাহারি খাবারের পাশাপাশি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ছিল আকর্ষণীয় অফার। কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসাও বেশ ভালো।
রেস্তোরা মালিকদের মধ্যে একজন বলেন, 'এই বছরে সবার রেসপন্স অনেক ভালো। খন প্রায় প্রতিটি রেস্টুরেন্টই পরিপূর্ণ হয়ে আছে।'
ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্ব শেখার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও। এই উৎসবের মাধ্যমে ভালোবাসা-আনন্দ-সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। নতুনভাবে পরিসর বৃদ্ধি হবে পরিবারের সব বয়সীদের মধ্যে। আজকের দিনে এমন প্রত্যাশাই সবার।