প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে কি পেলো বাংলাদেশ, তার জটিল হিসেব হয়তো ঢুকবে না তিস্তা পাড়ে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের মাথায়। তবে তারা আশায় বুক বেধে আছেন- তিস্তা নিয়ে কি আলোচনা হলো চীনের সাথে।
জানা গেছে, শুধু চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীই নয়। বরং প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সাথেও তিস্তা নিয়ে একান্তে আলাপ করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেই আলাপের ফলাফল ভারত নয়, বরং চীনকে তিস্তার জন্য উপযুক্ত মনে করে বাংলাদেশ।
চীনের বেইজিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সফরের আদ্যোপান্ত নিয়ে এখন টিভির সাথে আলাপচারিতায় প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার মতে, এই সফরটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বড় অর্জন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর একটা ঐতিহাসিক সফর। সম্পর্ক যেখানে আছে তার থেকে বেশি উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।’
তিনি বলেন শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশের পুরো নদী ব্যবস্থাপনাতেই একমাত্র চীনকে সঙ্গী করতে চায় বাংলাদেশ।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আমাদের তিস্তায় একসময় পানি থাকে আরেকসময় থাকে না। পানি ম্যানেজমেন্ট দরকার যেটা চীন জানে কীভাবে করতে হয়।’
প্রেস সচিবের বক্তব্যে অনেকটা পরিষ্কার যেকোনো ফরম্যাটে তিস্তায় চীন বাংলাদেশের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
নদী বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের সার্বিক ইঙ্গিত তিস্তা মহাকরিল্পনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘আমাদের এখানে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা অসময়ে এখানে হচ্ছে। আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি। এইটা বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গসহ গোটা বাংলাদেশে রক্ষা পাবে।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কাছে ৫০ বছরের যে মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তাতে তিস্তাই সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।