ঈদুল ফিতরে প্রস্তুত দিনাজপুর গোর এ শহীদ ময়দান

এখন জনপদে
দেশে এখন
0

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান দিনাজপুর গোর এ শহীদ বড় ময়দান। ঈদগাহ ময়দানটি সাড়ে ২২ একর জায়গা জুড়ে।

সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন সকাল ৯ টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠে। ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নিতে দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা এই ঈদের নামাজে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। এ বছরও এক সাথে লক্ষাধিক মুসল্লি এই ময়দানে নামাজ আদায় করবেন ।

আরো পড়ুন: সৌদি আরব, ইরান-ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ আজ

ঐতিহাসিক গোর এ শহিদ বড় ময়দানে ঈদের জামাত ইমামতি করবেন হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান। সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা।

সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মিনারে সংস্কার কাজ, রং করা, ধোয়া মুছা, মাঠে মাটি ভরাট, শতাধিক মাইক টানানো, ওয়াস টাওয়ার, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ওজু খানা, অস্থায়ী টয়লেট, ১৭টি প্রবেশ গেটসহ আনুসাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঈদগাহের মিনারের সংস্কার ও মাঠের পরিচর্যার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য এই ঈদগাহ মাঠে আসবেন।'

আরো পড়ুন: শোলাকিয়ায় বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা জোরদার

দিনাজপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন মারুফ বলেন, 'পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাতকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে। ঈদগাহের চার পাশে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সক্রিয় থাকবেন সাদা পোশাকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া মাঠের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত হয়েছে চারটি বড় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।'

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে ময়দানে বড় কোনো মিম্বর ছিল না।

আরো পড়ুন: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

২০১৫ সালে মিনারটি তৈরি হয়েছে মোগল স্থাপত্য রীতিতে। এর মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজ বিশিষ্ট ঈদগাহ মিনার রয়েছে। দুই প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট।

মাঝখানের দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট। আর টাইলস করা মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এতে খিলান রয়েছে ৩২টি।

প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে তৈরি মিনারটির নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার কোটি টাকা।

ইএ