'প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেয়া অন্যদের জন্য বার্তা'

দেশে এখন
0

প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেয়া অন্যদের জন্য বার্তা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন বলেছেন, সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা সই হবে। স্থান পাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা প্রকল্প ইস্যু। আর বিমসটেকের সাইডলাইনে মোদি ইউনূস বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আছে বাংলাদেশ। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া আসেনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যখন তলানিতে তখনই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর ভারতে হওয়ার রীতি ভেঙ্গে চীনে যাচ্ছেন ড. ইউনূস। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলছে এই সফর অন্যদের জন্য বিশেষ বার্তা।

পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন বলেন, 'চীন যে আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু সেই বন্ধুত্বকে আমরা ধারণ করি। এবং চীনের দিক থেকেও একই দিক থেকেও একই ধরনের সেন্টিমেন্ট আছে। এবং প্রধান উপদেষ্টা তার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেয়ার মধ্য দিয়ে একটা বার্তা আমরা দিচ্ছি।'

সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা সই হবে। যার মধ্যে অন্যতম মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া, গণমাধ্যম, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও স্বাস্থ্য খাত। এছাড়াও স্থান পাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা প্রকল্পে ইস্যু।

আর পরের দু'বছরের জন্য বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে বলে এই সম্মেলনকেও আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। আজ (মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ) দুপুরে, প্রধান উপদেষ্টার হাইলেভেল সফর দু'টির বিস্তারিত তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিমসটেকে ভারতের সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশ বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আছে। ভারত থেকে ইতিবাচক সাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন বলেন, 'ভারতের সাথে আমাদের বর্তমান সম্পর্কের যে প্রেক্ষাপট তার প্রেক্ষিতে এই বৈঠকটিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমরা আশা করি যে এই বৈঠক যদি অনুষ্ঠিত হয় তাহলে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে সৃষ্ট স্থবিরতা সেটা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।'

চীন সফর নিয়ে ব্রিফ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংও। বলা হয়েছে, চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে যাতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সেজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস করার চেষ্টা চলছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, 'এখানে যেন বেসরকারি সেক্টরে বিদেশিরা এসে বিনিয়োগ করতে কোনো ধরনের হ্যাসেল ফেস না করেন, সেজন্য সবার জন্য একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস যেন দেয়া যায় সেজন্য কাজ করা হচ্ছে।'

২৮ মার্চ সকালে বাংলাদেশ ও চীনের দুই সরকার প্রধানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এসএস