বান্দরবানের লামায় সম্প্রতি বেড়েছে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি আর অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে রাতের আধারে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এতে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় একজন বলেন, 'এর আগে একজনকে নিয়ে গিয়েছিল কিডন্যাপ করে। উনাকে নিয়ে দুইদিন বাদে ছাড়ছে। উনার থেকে আরও চার লাখ টাকা নিছে। তারপর ছাড়ছে। এরপর এক সপ্তাহ পর আবার সাতজনকে অপহরণ করছিল।'
দুর্গম এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেই সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা আর অনেক এলাকায় নেই মোবাইল নেটওর্য়াক। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে অপহরণ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। চলিত বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি রাবার শ্রমিককে অপহরণ করে কোম্পানির মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের মুক্তিপণ নেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
লামা উপজেলা সরই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার মো.আব্দুল হালিম বলেন, 'এখানে অস্থায়ীভাবে হলেও একটা সেনা ক্যাম্প তৈরি করা হোক জনগণের স্বার্থে। কারণ বতর্মান পরিস্থিতিতে আমরা রাতে ঘুমোতে পারছি না এলাকার লোকজন। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের অপহরণ করে নিয়ে শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক ক্ষতি করার চেষ্টা করছে সন্ত্রাসীগুলো।'
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, 'আমাদের তদন্তেও সেটা এসেছে এবং যারা ভিক্টিম, অপহরণ হয়েছিল তাদের সাথেও আমরা কথা বলেছি। তারা বলেছে, তাদের ওই ঘটনার সাথে ছয়জন প্রাথমিকভাবে জড়িত। এর বাইরে কেউ আছে কি না তা আমরা তদন্তের মাধ্যমে দেখবো।'
সন্ত্রাসীদের দৌড়াত্মরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে এলাকাবাসী।