সুক্তোর মতো কোমলমতি অনেক শিশুই জন্মের পর খেলার মাঠ হিসেবে পায় শুধু দুই ভবনের মাঝের খানিকটা সরু গলি। যেখানে তাদের অজান্তেই বন্দি হয়ে যাচ্ছে শৈশবের আনন্দ।
শুধু শিশুরাই নয় অপরিকল্পিত নগরায়নে সবচেয়ে বেশি বিপাকে তরুণরাও। এই যেমন তরুণ ফাইয়াজ সামিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সবুজ বেষ্টিত কুমিল্লার মুরাদনগরে। স্বপ্নবাজ এই তরুণ বছর চার ধরে পড়াশোনার জন্য থাকছেন কংক্রিটের নগরীতে। নগরীর এমন ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে তার মানসিক বিষণ্নতা যেমন আছে তেমনি দিনদিন কমছে তার কাজের প্রতি মনোযোগও। ফাইয়াজের কাছে এখন মনন আর সৃষ্টিশীলতার চর্চা যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে ইট-পাথরের স্তূপে।

তরুণ ফাইয়াজ সামিন। ছবি: এখন টিভি
ফাইয়াজ সামিন বলেন, 'খোলামেলা পরিবেশ নেই। মেসে থাকি, মেসে আলো-বাতাস পাই না। মাঠেও আসলে তেমন একটা যাওয়া হয় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় যায়, মোবাইলে বেশি সময় যায়, গেম খেলি। পড়ালেখায় মন দিতে পারি না।'
এমন অবস্থা থেকে উত্তরণে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মানসিক অবসন্নতা রোধে পুরোপুরি ভেন্টিলেশনযুক্ত বাসা-বাড়ি নির্মাণ এবং শিশুদের জন্য খোলা মাঠ নিশ্চিত করার।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজুল ইসলাম বলেন, 'যেখানে স্পেস কম, আলো-বাতাস কম, দম নেয়ার জায়গা কম। সেখানে কিন্তু ফোবিয়া মানে ভয়ভীতির জায়গাটা বেশি। যারা যত বদ্ধ স্পেসে থাকবে তাদের ততো মনোবিকাশের জায়গাটা কম হবে।'
অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, আধুনিক নগরায়ন মানেই শুধু ভবন ও রাস্তা নির্মাণ নয়। সুস্থ নাগরিক জীবন নিশ্চিত করতে সবুজকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পিত নগর গড়ার পরামর্শের পাশাপাশি তার।
নগর পরিকল্পনাবিদ এনামুল করিম নির্ঝর বলেন, 'যখন আপনার মানুষের প্রতি সহানুভূতি থাকবে না, তখন মানুষের জন্য আপনার বিবেচনাবোধ থাকবে না। তখন সহানুভূতি কেন অনেক কিছুই দিতে ইচ্ছে করবে না। সংকট সমাধানে সবার চিন্তার ঐক্যটা দরকার সবার আগে। ঐক্য যদি থাকে তাহলে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো একটা উপায় খুঁজে বের করবে।'
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই শহরেও মানুষ বাঁচতে চায় মুক্ত বাতাসে। কংক্রিটের দেয়াল পেরিয়ে শ্বাস নিতে চায় প্রকৃতির সবুজ ঘ্রাণে। নগরায়নের প্রগতি যেন মানবতার শিকড় থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন না করে সেই প্রত্যাশা নগরবাসীর।