ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ ও মাস্টার প্ল্যান ২০১০ বাতিল করে ২০২২ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর।
নতুন ড্যাপে ভবনের উচ্চতা বেঁধে দেওয়া হয়। যেখানে প্রশস্ত রাস্তা না থাকলে ৮ থেকে ১০ তলা ভবন করা যাবে না।
এরপর থেকেই আবাসন ব্যবসায়ীরা এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। আজ (বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিরডাপে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে। তাদের দাবি, জমি কম থাকা এবং নতুন ড্যাপে ভবনের উচ্চতা কমানোর কারণে নতুন প্রকল্প নেই।
রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদ্দুজ্জামান বলেন, 'ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করার অতি জরুরি।'
একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে খুশি করতে ২০২২ সালে ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে অভিযোগ করে রিহ্যাব বলছে, এতে ঢাকা মহানগরের ৮০ শতাংশ অপরিকল্পিত থেকে যাবে। শহর পরিণত হবে মরণফাঁদে । আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি মানা না জমির মালিকসহ সব অংশীজনদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদ্দুজ্জামান বলেন, 'নানা ছলচাতুরি করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে ড্যাব ও নির্মাণ বিধিমালার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে বলতে চাই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ ও টালবাহানা চলবে না।'
এদিকে পাল্টা আলোচনা সভায় বাংলাদেশ প্ল্যানার্স ইন্সটিটিউট র অভিযোগ, ইমারত বিধিমালা সংশোধনের নামে রাজউক এবং মন্ত্রণালয় মিলে নীরবে পরিবেশ ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। এতে আবাসন ব্যবসায়ীরা মদদ দিচ্ছে।
বিআইপি সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'ভুয়া সমন্বয়ক একজন স্থপতি। তিনি ভুয়া সমন্বয়ক। তিনি গিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে দেখা করলেন, বললেন বৈষম্যমূলক ড্যাপ বাতিল করতে হবে। এভাবে করে পুরো আবাসন গ্রুপটা সেখানে চড়াও হলো। অভ্যুত্থানের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে যে সরকার, সে সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে বলে রিয়েলস্টেটের পরামর্শ অনুযায়ী ড্যাপের সংস্কার করতে হবে। পৃথিবীর কোথাএ রিয়েলস্টেটের পরামর্শ অনুযায়ী কী দেশের আইন, পরিকল্পনা তৈরি হয়?'
ড্যাপ বাতিল নয় বরং বাসযোগ্য শহর গড়তে রাজউককে পুনর্গঠন করা জরুরি বলে মনে করেন বক্তারা।