দেশে এখন

ডেঙ্গুর শঙ্কা বাড়ছে, সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা

অপরিচ্ছন্ন খাল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা আর সিটি করপোরেশনের উদাসীনতায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। একইসাথে মশার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন করছেন এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি।

ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ভরাট হয়ে আছে জিরানী খাল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খিলগাঁও নন্দীপাড়াবাসীর আতঙ্কের কারণ এই খাল। অপরিচ্ছন্ন এই খালের আশেপাশে বসবাসরত বাসিন্দারা মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ থাকেন সারাবছর।

এলাকাবাসী জানান, মাঝেমধ্যেই সিটি করপোরেশন খাল পরিষ্কার করলেও ফের নিজেরাই আবর্জনা ফেলে রেখে যান এর পাড়েই। পরবর্তীতে বৃষ্টির পানিতে যা আবারও খালে গিয়ে জমা হয়। এতে করে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। যা থেকে জন্ম নেয় মশা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, 'যে পরিমাণ মশার ওষুধ আমাদের এখানে পাওয়ার কথা সে পরিমাণ মশার ওষুধ আমরা পাচ্ছি না।'

আরেকজন বলেন, 'মশার এত পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে আমরা যদি দুই তিনটা মশার কয়েল একসঙ্গে জ্বালায় তাতেও কমছে না।'

গেল ডেঙ্গু মৌসুমে এই এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই একাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ডেঙ্গুতে। এবারও ইতোমধ্যে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। খাল ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন ফাঁকা প্লটে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। এডিস মশা জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে জায়গায় জায়গায়।

এদিকে, দক্ষিণ সিটির আওতাধীন কয়েকটি থানায় ও পুলিশ ফাঁড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির বলেন, 'থানার পরিত্যক্ত যানবাহন রাখার জায়গায় যেন এডিস জন্মাতে না পারে সেজন্য স্প্রে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'

এদিকে, গেল ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ মাস পর সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগীর রেকর্ড হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে মশা নিধনে কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান এলাকাবাসীর।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর