দেশে এখন
পাহাড়ি জমির দাম বেড়ে কয়েকগুণ
সমতলের চাইতেও কয়েকগুণ বেশি হারে বাড়ছে তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ের ভূমির দাম। হাজার কিলোমিটার সীমান্ত সড়কসহ সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার পিচঢালা সড়ক যেন বদলে দিয়েছে পাহাড়ের মানচিত্র আর জীবনযাপন।

৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৮ কিলোমিটার রাঙ্গামাটি-আসামবস্তি সড়ক দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অর্থনীতি আর পর্যটনে এনেছে নতুন গতি। সড়কের পাশেই চোখে পড়বে নারী কর্মসংস্থানের অনন্য উদাহরণ। পর্যটক বাড়ায় সম্প্রতি দোকান খুলেছেন এক পাহাড়ি নারী। চিপস, চানাচুর, জুস, কোমল পানিয়ের মতো পণ্যে অভ্যস্ত হচ্ছেন পাহাড়িরা।

পাহাড়ি ফলের চাহিদা আছে আগে থেকেই, পর্যটকরা আসায় বাড়তি দাম মিলছে এসব পাহাড়ি ফলের। আর্থ সামাজিক অবস্থার এমন পরিবর্তনে খুশি প্রান্তিক পাহাড়িরা।

তারা জানান, আগে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে পেঁপে বিক্রি করতাম, এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করি। স্কুলে যেতে হেঁটে যেতে হত, এখন সিএনজি, বাইক দিয়ে যেতে পারি। এতে আমাদের সময়ও কম লাগে।

শান্তি চুক্তির পর ২৬ বছরে তিন পার্বত্য জেলায় এমন সড়ক হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। এরমধ্যে সেনাবাহিনীর তৈরি করা ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটারের সীমান্ত সড়ক খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি আর বান্দরবান হয়ে যাবে কক্সবাজার পর্যন্ত। পাহাড়ের ২ থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় পিচঢালা সে সড়ক নিরাপত্তা আর যোগাযোগে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এ সড়ক ধরে দুই পাশে বাড়ছে ফল ফসলের বাগান, আসছে নানা খাতে বিনিয়োগ।

পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অং সু প্রুই চৌধুরী জানান, রাস্তাঘাট হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অল্প খরচে পণ্য বহন করতে পারছেন। বেশি লাভও করতে পারছেন। এটা অর্থনীতির উপর বড় একটা প্রভাব পড়বে।

কাপ্তাই লেককে ঘিরে ছোট ছোট দ্বীপের মতো রাঙ্গামাটি। বাসিন্দারা জানান, এখানে যোগাযোগ যত সহজ হয়েছে, ততই বেড়েছে জমির দাম। ১০ বছর আগে তিন হাজার টাকার পাহাড়ের মূল্য এখন ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই দ্রুত কিনছেন দুর্গম এসব পাহাড়। কেউবা করছেন পাহাড় বেচাকেনার ব্যবসাও।

রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, পর্যটন ক্ষেত্র প্রসারিত হওয়ায় জমির দাম বাড়ছে। সেজন্য জমির মালিকসহ বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, শিক্ষার প্রসারের সাথে পাহাড়ি এলাকায় এখন শিল্প কারখানা আর কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন সংঘাত বন্ধ করে, সম্প্রীতির সুবন্ধন তৈরির।

এমএসআরএস