ধূসর আকাশের বুকে বাহারি রঙের ঘুড়ি। যার সুতোয় বাঁধা আনন্দধারা।
দিন পেরোলেই সাকরাইন, পুরান ঢাকার শেকড়ের উৎসব। মোঘল আমলে নবাবি ছাদে যে ঘুড়ির লড়াই ছিল গর্ব আর কৌশলের প্রতিযোগিতা, তার কতটুকু স্মৃতি ছুঁতে পারছে আজকের প্রজন্ম?
কিশোরদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সাকরাইন আসলে আমরা বন্ধু-বান্ধব মিলে ঘুড়ি উড়াই। ঘুড়ি কাটতে ভালো লাগে।’
অন্য একজন বলেন, ‘সারা দিন শুধু ইচ্ছামতো ঘুড়ি উড়াবো আর কাটবো।’
তরুণদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখন ছোটদের একটু হেল্প করছি। আমরা যেটা করে আসছি, তারা যেন এটা ধরে রাখে, এ ঐতিহ্যটা ধরে রাখতে পারে।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘পরিবারের সব সদস্য মিলেমিশে ঘুড়ি উড়াই। সেজন্য আমরা ঘুড়ি কিনতে আসছি। এটাই আমাদের আনন্দ, আমাদের জন্য।’
ইতিহাস বলছে, পুরান ঢাকার এ ক্যানভাসে সাকরাইন মানেই আকাশছোঁয়ার আনন্দ। পারিবারিক মিলনমেলা আর ঘুড়ি উড়ানোর এ প্রতিযোগিতায় নতুন এক সুর খুঁজে পায় পুরান ঢাকাবাসী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সাকরাইনের যে ঐতিহ্য, তাতে এসেছে পরিবর্তন। ডিজে গান আর আতশবাজির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পুরো উৎসবকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ।
ঘুড়ি বিক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগে ঘুড়ির যে চাহিদা ছিল এখন সেটা ধীরে ধীরে কমছে।’
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগে যেমন বলতা ভাগার্তা, ভাগার্তা। গুড্ডি উৎসব একটা অন্যরকম আমেজ ছিল। এ আবেগটা এখন সংস্কৃতি এমন হয়ে গেছে, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, ডিজে প্রোগ্রাম এগুলোতেই হচ্ছে।’
বুধবার উৎসবের আমেজে মানুষ হয়তো আরও একবার আকাশের দিকে তাকাবে, ঘুড়ির ভিড়ে খুঁজবে নিজের শৈশব, আর হারিয়ে যেতে চাইবে মুহূর্তের আনন্দে। তবে সেই আলোয় কতটা উজ্জ্বল হচ্ছে উৎসবের শিকড়, সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।




