চার স্তরের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া, সকাল ১০টায় ঈদের জামাত

কথা বলছেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম
কথা বলছেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
0

১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারও থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মোতায়েন থাকবে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি।

ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।

নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিরা টুপি, জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছাতা বহনেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

আজ (বুধবার, ১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।

আরও পড়ুন:

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালের ঘটনার পর থেকে প্রতিবছরই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। এবারও চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় এক হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠ ও আশপাশ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট ও পিকেট। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারের মধ্যে চারটি পুলিশ ও দুটি র‌্যাব ব্যবহার করবে।’

তিনি জানান, মাঠজুড়ে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি চারটি ড্রোন ক্যামেরা ও ছয়টি ভিডিও ক্যামেরা মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তায় থাকবে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, সুইপিং টিম ও কুইক রেসপন্স টিম। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।’

র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘স্নাইপার, ড্রোন ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। র‌্যাব সদস্যরা পোশাক ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন।’

আরও পড়ুন:

কোনো ধরনের হুমকি নেই বলেও জানান তিনি।

ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, মাঠ প্রস্তুতকরণ, রং করা, অজু ও গোসলের ব্যবস্থাসহ মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার্থে ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ১৬ মুসল্লি। এরপর থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি কমেনি।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের মোনাজাতে ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লির কথা উল্লেখ থেকে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি। ১৯৫০ সালে দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াকফ করেন। বর্তমানে এখানে ২৬৫টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

এসএস