আরও পড়ুন:
ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী: ধাপ-১ থেকে ধাপ-১১
১. তথ্য সংগ্রহ: ভোটের আগে আপনার ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্র ও ক্রমিক নম্বর জেনে নিন।
২. সহায়তা কেন্দ্র: ভোটার নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে ১০৫ নম্বরে কল করুন। এছাড়া স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট (Smart Election Management BD) অ্যাপের মাধ্যমেও এসব তথ্য পাবেন।
৩. প্রস্তুতি: ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভোটার নম্বর বা ক্রমিক নম্বর লেখা স্লিপ সঙ্গে রাখুন। এটি না থাকলে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখা ভালো।
৪. সময়সূচি: আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাতটা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল চারটা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
৫. শৃঙ্খলারক্ষা: ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটারদের জন্য নির্ধারিত লাইনে দাঁড়ান এবং নিজের পালার জন্য অপেক্ষা করুন।
৬. শনাক্তকরণ: আপনার পালা এলে প্রথম পোলিং অফিসার আপনাকে ভোটার তালিকায় থাকা ছবি ও তথ্যের সাথে মিলিয়ে শনাক্ত করবেন।
৭. কালির চিহ্ন: পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আপনার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অমোচনীয় কালির (Indelible Ink) চিহ্ন দেওয়া হবে।
৮. ব্যালট গ্রহণ: এরপর আপনি দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট (White Ballot) এবং গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট (Pink Ballot)।
৯. পরীক্ষা: ব্যালট হাতে পেয়ে এর পেছনে অফিসিয়াল সিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে কি না তা যাচাই করে নিন।
১০. গোপন কক্ষ: এবার ব্যালট দুটি নিয়ে গোপন কক্ষে (Secret Booth) প্রবেশ করুন। সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে এবং গণভোটের গোলাপি ব্যালটে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' বক্সে সিল দিন।
১১. ভাঁজ ও ব্যালট বক্স: সিল দেওয়ার পর সিলের কালি যাতে অন্য ঘরে না লাগে, সেজন্য ব্যালটটি প্রথমে লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করুন। এরপর দুটি ব্যালট পেপার নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলে কক্ষ ত্যাগ করুন।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
ভোটের দিন প্রচার ও আচরণবিধি: যা নিষিদ্ধ (Campaign Restrictions & Prohibited Acts)
১. নিরাপদ এলাকা (No Campaign Zone): ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ (400 Yards) ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক কোনো ধরনের নির্বাচনি ক্যাম্প (Election Camp) স্থাপন করতে পারবেন না। এই সীমানার মধ্যে কোনো প্রকার জটলা বা জট পাকানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. প্রচার সামগ্রী অপসারণ (Removal of Campaign Materials): ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কোনো প্রকার পোস্টার, লিফলেট বা ব্যানার থাকলে তা ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড কেন্দ্রের আশেপাশে চালানো যাবে না।
৩. যানবাহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা (Vehicle Restrictions): ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থী বা তার সমর্থকরা কোনো প্রকার যানবাহন (Vehicles) ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইসি-র কঠোর পর্যবেক্ষণ রয়েছে যাতে তা কেবল ব্যক্তিগত যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থীরা কেবল অনুমতিপ্রাপ্ত একটি ছোট গাড়ি (জিপ/কার/মাইক্রোবাস) রিটার্নিং কর্মকর্তার স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে ব্যবহার করতে পারবেন।
৪. কঠোর ব্যবস্থা: যদি কেউ প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কোনো যানবাহনে করে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন বা ৪০০ গজের মধ্যে প্রচারণা চালান, তবে তা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন (Violation of Code of Conduct) হিসেবে গণ্য হবে। এর দায়ে জেল, জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
ভোটগ্রহণ শুরু ও প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব (Commencement of Polls & Duties)
১. নির্দিষ্ট সময়ে ভোট শুরু (Punctual Start): ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিক সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু করতে হবে। কোনো যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক অজুহাতে ভোটগ্রহণে বিলম্ব করা যাবে না। বিকালের দিকে ভোটারদের অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে সকাল থেকেই দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
২. ভোটার তালিকা যাচাই (Voter List Verification): ভোট শুরুর আগে প্রিজাইডিং অফিসার (Presiding Officer) তার কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত ভোটার তালিকা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করবেন। ভোটকক্ষে সরবরাহকৃত বিভাজিত তালিকাগুলো (Split Lists) সঠিক এবং ত্রুটিমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করা তার প্রধান দায়িত্ব।
৩. ব্যালট পেপারের বৈধতা (Validity of Ballot Paper): ভোটারের হাতে ব্যালট পেপার তুলে দেওয়ার আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক: ব্যালট পেপারের পেছনের অংশে অফিসিয়াল সিল (Official Seal) থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের (Assistant Presiding Officer) স্বাক্ষর থাকতে হবে। এই সিল ও স্বাক্ষরবিহীন কোনো ব্যালট পেপার বাক্সে পাওয়া গেলে তা সরাসরি বাতিল (Invalid) বলে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন:
ফল একত্রীকরণ ও ঘোষণা প্রক্রিয়া (Result Consolidation & Declaration)
১. দ্রুত ফল একত্রীকরণ (Rapid Consolidation): ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রিজাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ করবেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই ফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসি। প্রার্থী ও তাদের পোলিং এজেন্টদের আগে থেকেই ফল একত্রীকরণের স্থান ও সময় নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
২. ফরম-১৬ ও ১৬ক এর সমন্বয় (Form 16 & 16A Integration): চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করতে দুটি প্রধান বিবরণী যোগ করা হয়:
- ফরম-১৬: সাধারণ ভোটকেন্দ্র থেকে আসা ফল বিবরণী।
- ফরম-১৬ক: দেশি ও বিদেশি পোস্টাল ব্যালটের (Postal Ballots) ফল বিবরণী। রিটার্নিং কর্মকর্তা এই দুই ফরমের তথ্য যোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোটের ফল প্রস্তুত করবেন।
৩. বাতিল ব্যালট পুনঃপরীক্ষা (Review of Rejected Ballots): প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রাথমিক গণনায় যে ব্যালটগুলো বাতিল করেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা চাইলে ফল একত্রীকরণের আগে সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। যদি কোনো বৈধ ভোট ভুলবশত বাতিল হয়ে থাকে, তবে তা পুনরায় গণনায় যোগ করার এখতিয়ার তার রয়েছে।
৪. গেজেট প্রকাশ ও নাম ঘোষণা (Gazette Notification): ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি একীভূত বিবরণী বা 'রিটার্ন' ইসি সচিবালয়ে পাঠাবেন। একই সাথে তিনি স্থানীয়ভাবে গণবিজ্ঞপ্তির (Public Notification) মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:





