আরও পড়ুন:
ভোট বাতিল এড়াতে যে ৭টি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
১. সঠিক স্থানে সিল প্রদান (Correct Stamping Spot): ভোট দেওয়ার সময় ব্যালট পেপারের নির্ধারিত ঘরে প্রার্থীর মার্কার ওপর স্পষ্ট করে সিল দিতে হবে। সিল যদি কোনোভাবে নির্ধারিত ঘরের বাইরে চলে যায় বা দুটি প্রতীকের মাঝখানে পড়ে, তবে ভোট গণনার সময় তা বাতিল (Vote Cancellation) হতে পারে। তাই সিল দেওয়ার সময় মার্কার অবস্থান নিশ্চিত করুন।
২. ব্যালট ভাঁজ করার সঠিক কৌশল (Proper Ballot Folding): সিল দেওয়ার পরপরই ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমে কাগজটি একবার লম্বালম্বিভাবে (Vertically) ভাঁজ দিন, এরপর ওপরের দিকে ভাঁজ করুন। আড়াআড়ি ভাঁজ করলে সিলের ভেজা কালি অন্য প্রার্থীর প্রতীকে লেগে যেতে পারে, যা আপনার ভোটাধিকার (Right to Vote) নষ্ট করতে পারে।
৩. একাধিক সিল দেওয়ার পরিণাম (Effect of Multiple Stamps): ব্যালট পেপারে কেবল একজন প্রার্থীর প্রতীকেই সিল দেওয়া যাবে। একাধিক প্রার্থী পছন্দ হলেও যদি আপনি একাধিক মার্কায় সিল দেন, তবে সেই ব্যালটটি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই গোপন কক্ষে (Secret Booth) যাওয়ার আগেই মনস্থির করুন আপনি কাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে চান।
৪. কলম বা পেনসিলের ব্যবহার নিষিদ্ধ (Use of Pen or Pencil Prohibited): ব্যালট পেপারে কোনো ধরনের কলম বা পেনসিল দিয়ে চিহ্ন দেওয়া, টিক দেওয়া বা সই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কর্তৃক সরবরাহকৃত রাবার স্ট্যাম্পের সিলই গ্রহণযোগ্য। এর বাইরে কোনো দাগ থাকলে সেই ব্যালট আর গ্রহণযোগ্য (Valid Ballot) থাকে না।
৫. ব্যালট পেপারের ক্ষতি বা বিকৃতি (Damage or Defacement of Ballot): ভোট দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন ব্যালট পেপারটি কোনোভাবে ছিঁড়ে না যায়। অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসতর্কতার কারণে ব্যালট ছিঁড়ে ফেললে বা বিকৃত করলে সেই ভোটটি বাতিল বলে ধরে নেওয়া হবে। তাই ব্যালট পেপারটি অত্যন্ত যত্নসহকারে নাড়াচাড়া করুন।
৬. ব্যালটে কোনো কিছু লেখালেখি করা (Writing on Ballot Paper): অনেকে ক্ষোভ বা আবেগ থেকে ব্যালটে স্লোগান, অভিযোগ বা ব্যক্তিগত কোনো বার্তা লিখে ফেলেন। এটি নির্বাচনী আচরণবিধি (Election Code of Conduct) পরিপন্থী। ব্যালট পেপারে সিল ছাড়া অন্য কোনো লেখালেখি থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
৭. ভোটারের পরিচয় গোপন রাখা (Maintaining Voter Anonymity): ব্যালটে যদি এমন কোনো চিহ্ন, সই বা পরিচিতি থাকে যার মাধ্যমে ভোটারকে চেনা সম্ভব হয়, তবে সেই ভোটটি বাতিল হবে। ভোটাধিকার একটি গোপন আমানত, তাই ব্যালট পেপারে আপনার ব্যক্তিগত পরিচিতি প্রকাশ পায় এমন কোনো সাংকেতিক চিহ্ন (Coded Signal) ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
আরও পড়ুন:
ভোটের সময় ও তথ্য অনুসন্ধান (Voting Time & Information)
ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোটারদের সুবিধার্থে স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ (Smart Election Management BD App) চালু করা হয়েছে। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে বা এসএমএস পদ্ধতি (SMS Method) ব্যবহার করে সহজেই ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র জানা যাবে।
আরও পড়ুন:
ভোট দেওয়ার আগে জেনে নিন: ব্যালট ভাঁজ ও সিল মারার সঠিক পদ্ধতি (Correct Method of Voting)
কেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে আঙুলে অমোচনীয় কালি (Indelible Ink) দেবেন। এরপর আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা-কালো এবং গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট (Pink Ballot Paper)। গোপন কক্ষে গিয়ে প্রতীকের ওপর স্পষ্ট সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালটটি লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন কালি ছড়িয়ে ভোট নষ্ট না হয়।
ভোট বাতিল বা স্থগিত হওয়ার কারণসমূহ (Reasons for Vote Cancellation or Suspension)
নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন (Free and Fair Election) নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নিচের কারণগুলোতে ভোট বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
সহিংসতা ও কেন্দ্র দখল (Violence and Booth Jamming): কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই বা ককটেল হামলার মতো ঘটনা ঘটলে প্রিসাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভোট স্থগিত করতে পারেন।
ভোট কারচুপি (Vote Rigging): জালভোট প্রদান বা একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেওয়ার প্রমাণ মিললে সেই কেন্দ্রের ফল বাতিল করা হয়।
ভোট গোপন না রাখা (Violation of Vote Secrecy): গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার করে সিলের ছবি তোলা বা অন্যকে ভোট দেখিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ।
ব্যালট পেপারে ত্রুটি (Ballot Paper Defects): ব্যালটের পেছনে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর বা অফিশিয়াল সিল না থাকলে সেই ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
কর্মকর্তাদের গাফিলতি (Negligence of Officials): পোলিং বা প্রিসাইডিং অফিসারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ প্রমাণিত হলে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল হতে পারে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
পরিসংখ্যান ও নিরাপত্তা (Statistics and Security)
এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার অংশ নিচ্ছেন। ২৯৮টি আসনে প্রার্থী হয়েছেন ২ হাজার ৩৪ জন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীসহ প্রায় ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য (Law Enforcement Members) মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:




