‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’— মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ছড়ার এ লাইনের মতোই হয়তো পড়াশুনা করে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কেউ কেউ বা মা-বাবার জীর্ণ কুঁড়েঘরটা বদলে দিয়ে ফিরিয়ে আনতে চায় সচ্ছলতার সুদিন। তবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সে স্বপ্নের যাত্রা থমকে গেছে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য বলছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পারেনি প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী।
এবার সবচেয়ে বেশি ফল বিপর্যয় হয়েছে ইংরেজি ও আইসিটিতে। এ দুই বিষয়ে পাশ করতে পারেনি ৩ লাখ ৮২ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ইংরেজিতেই ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। কেন এতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এমন অবস্থা?
শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও এবারের নতুন কাঠামোর প্রশ্নের জন্য অনেকটা কঠিন হয়েছে পরীক্ষা। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক নানা কারণ প্রভাব ফেলেছে শিক্ষার্থীদের ওপর।
যদিও শিক্ষকদের দাবি, ফলের এ ধস নেমেছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-বিমুখতার কারণে। মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভরশীলতা, সোশ্যাল মিডিয়া ও মাদকও বড় প্রভাব ফেলেছে এইচএসসির এমন ফলে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব আছে দেশে। বাধ্যতামূলক বিষয়ে যখন এমন ধস, তখন শুধু ফলের পরিসংখ্যান দিয়েই এবারের বিপর্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
টিচার ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর এম. নাজমুল হক বলেন, ‘কারিকুলামের ওপর সামগ্রিক জোর দেয়া হয়নি। সেজন্য আমাদের শিখন ঘাটতি তো কিছুটা আছেই। কিন্তু সেই ঘাটতি মাথায় রেখে যদি প্রশ্ন করা হতো, তাহলে হয়তো অনেকটা সহজ হতে পারতো, সেটা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ইংরেজি তো সবসময়ই খারাপ হয়, আমাদের ইংরেজি শিক্ষকের সংখ্যা খুব একটা ভালো নয়। ইংরেজি যারা পড়াচ্ছেন, তাদেরও খুব ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে না। আমাদের স্কুলগুলোর একটা প্রবণতা হচ্ছে, নিচের ক্লাসে গুরুত্ব না দিয়ে টার্মিনাল পরীক্ষাগুলো যখন আসে, তার এক বছর আগে থেকে তারা সেভাবে প্রস্তুতি শুরু করে। তার মানে, ভিত্তিটা কিন্তু কাঁচাই থেকে যাচ্ছে।’
এছাড়া বিষয়ভিত্তিক ফল, প্রশ্ন কঠিন হওয়া, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের ধরন পর্যালোচনা করেই প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।





