এর আগে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬’ উত্থাপনের অনুমতি চান। ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সংশোধন বিল ২০২৬’ বিলে বিতর্কিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, এর নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।
বিল উত্থাপনের বিরোধিতায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আয়নাঘরের মাধ্যমে র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে।’
নাহিদ বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ সব দলেরই প্রতিশ্রুতি ছিল র্যাব বিলুপ্ত করা। কিন্তু র্যাব বিলুপ্ত করে সেই একই জনবল দিয়ে আবার এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা মানে নতুন মোড়কে পুরোনো বাহিনীকে ফিরিয়ে আনা।’
আরও পড়ুন:
সংসদে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবি করে তিনি বিল উত্থাপনের অনুমতি না দেয়ার অনুরোধ করেন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের আপত্তির জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নিজে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন, অথচ তাদের ১৮ মাসের শাসনামলে অধ্যাদেশ জারি করে র্যাব বিলুপ্ত করা হয়নি।’
সাবেক আইজিপি বেনজীরের উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার জন্য তো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করে দেয়া যায় না। মাথা ব্যথা হয়েছে বলে তো মাথা কর্তন করা যায় না। প্রতিষ্ঠানের কোনো দোষ নয়, দোষ হলো যারা এটি পরিচালনা করেছে সেই রাজনৈতিক বা মাফিয়া শক্তির।’
তিনি জানান, বর্তমান যুগের সাইবার ক্রাইম, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পুলিশ বাহিনীর অধীনে বিশেষায়িত ফোর্সের প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান র্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগকে সমর্থন জানান। তবে একই ধাঁচের নতুন বাহিনী গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘র্যাব বিলুপ্তির পর নতুন শক্তির কথা শুনলে জনগণের মনে হতে পারে শুধু পোশাক বা এপ্রোন পরিবর্তন করা হয়েছে, মূল কনসেপ্ট একই রয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ অতীতের বিভিন্ন গুম ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘পুরো জাতি এখনো ট্রমাটাইজড।’ তাড়াহুড়ো না করে আরও বিচার-বিশ্লেষণ করে সর্বসম্মতিক্রমে স্বচ্ছ আইন আনার অনুরোধ জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইন পাশের আশ্বাস দেন। নিজের গুম ও নির্যাতনের অতীতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে কোনো বাহিনীর অপব্যবহার হতে পারে না।’
বিরোধীদলের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিলের পরীক্ষার সময়সীমা দুই দিনের পরিবর্তে বাড়িয়ে চার কার্যদিবস করার প্রস্তাব করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দিলে চার কার্যদিবসের মধ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল ২০২৬-এর প্রতিবেদন দাখিলের শর্তে বিল সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়।





