ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে ক্রমেই বদলে যাচ্ছে ঢাকার সড়কচিত্র। এ শহরের বুকে রীতিমতো পাথরের মতো চেপে বসেছে এই ত্রিচক্রযানটি, যা পথচারীসহ সড়কের অন্য যানবাহনের জন্য এক বিভীষিকার নাম।
সড়কের এ বিষফোড়াটির কোনো ফিটনেস সনদ, চালকের প্রশিক্ষণ নেই, ট্রাফিক আইন মেনে চলার বালাই নেই। উদ্বেগের বিষয় এই বাহনে নষ্ট হচ্ছে বিপুল বিদ্যুৎ।
দেশে যখন বিদ্যুত সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন, তখন ডিএমপির হিসেবে শুধু রাজধানীতেই ব্যাটারিচালিত রিকশার হাজারখানেক গ্যারেজে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জিং পয়েন্ট আছে ৪৮ হাজারের বেশি।
এখন টিভির পরিদর্শনেও দেখা যায়, অসংখ্য অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে রিকশা চার্জের ব্যবস্থা বানিয়েছে একটি মহল। হুকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে পিডিবি, ডিপিডিসি,ডেসকো,নেস্কোর লাইন থেকে দিনে প্রতি রিকশার জন্য প্রায় ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ নিয়ে নিচ্ছে গোপনে, যা লোডশেডিং বাড়াচ্ছে।
তবে এই বিষয়ে কথা বলতে নারাজ গ্যারেজ মালিকরা। তাদের দাবি, এ অনিয়মের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের যোগসাজশ রয়েছে। এছাড়া রিকশাচালকরা জানান, যারা চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, তারাই নিচ্ছেন এই চার্জের বিনিময়ে ১০০ টাকা করে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, সিস্টেম লস বা বিদ্যুতের অপব্যবহারের কারনে জাতীয় গ্রিডের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণে ব্যাটারি রিকশা এসেছে, এগুলো সব রাতে চার্জে বসিয়ে দেয়। এগুলো বেশিরভাগই অবৈধ সংযোগ।’
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনও মনে করেন অটোরিকশার পেছনে খরচ হওয়া বিদ্যুত লোডশেডিংয়ের বড় কারণ। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, বর্তমানে সমস্যাটা মোকাবিলা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এর পাশাপাশি প্যারালালি সামনের জন্য আমি কী করে যাচ্ছি, সামনের জন্য আমার প্রস্তুতিটা কী, সেটা করা। নীতিমালার দুর্বল অবস্থার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ১৭ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাস সংকটে বর্তমানে উৎপাদন কমে দাঁড়ানোয় ৩ হাজার মেগাওয়াট এর কাছাকাছি লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।





