এছাড়া ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন, যা মোট নিহতের ৩৩.১৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪.৭১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.৪৮ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন, অর্থাৎ ১২.২৫ শতাংশ।
আজ (বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে’ এসব তথ্য জানানো হয়।
যেখানে বলা হয়, এই সময়ে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। ২৯টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্রে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৮ জন (৩৩.১৭ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২১ জন (৫.০৪ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ১৯ জন (৪.৫৬ শতাংশ), মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ৭ জন (১.৬৮ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (অটোরিকশা-অটোভ্যান-ইজিবাইক-সিএনজি-মিশুক) ৯৪ জন (২২.৫৯ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-পাখিভ্যান) ২৬ জন (৬.২৫ শতাংশ) এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন (১.২০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৯টি (৩৬.৮৯ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি (৩৩.৮৪ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি (১৩.৩১ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৬৬টি (১৪.৪১ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৭টি (১.৫২ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরনে উল্লেখ করা হয়েছে- দুর্ঘটনাগুলোর ১২৩টি (২৬.৮৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৪টি (৩৫.৮০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৮টি (২৩.৫৮ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৫৪টি (১১.৭৯) শতাংশ যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৯টি (১.৯৬ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ময়লাবাহী ট্রাক ২২.৫০ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৭.৪৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ২.৯৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.১৯ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-অটোভ্যান- ইজিবাইক-সিএনজি-মিশুক-লেগুনা) ১৮.৪২ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-পাখিভ্যান-টমটম-মাহিন্দ্র) ৭.৩১ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১.৮২ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৩৪ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭১১টি। বাস ১২৪, ট্রাক ৯২, কাভার্ডভ্যান ১৫, পিকআপ ১৭, ট্রাক্টর ৬, ট্রলি ৮, লরি ১১, ড্রাম ট্রাক ৯, ময়লাবাহী ট্রাক ২, মাইক্রোবাস ৬, প্রাইভেটকার ৮, অ্যাম্বুলেন্স ৪, জিপ ৩, মোটরসাইকেল ১৭২, থ্রি-হুইলার ১৩১ (অটোরিকশা-অটোভ্যান-ইজিবাইক-সিএনজি-মিশুক-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৫২ (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-পাখিভ্যান-টমটম-মাহিন্দ্র), রিকশা ৯, বাইসাইকেল ৪ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩৮টি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।





