বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঘিনীটি পুরোপুরি সেরে উঠেছে। তার চলাচল পর্যবেক্ষণে আন্ধারমানিক এলাকার প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হচ্ছে। অন্তত এক বছর তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
গত ৩ জানুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের শারকিরখাল এলাকায় হরিণ ধরার জন্য পাতা একটি ফাঁদে বাঘিনীটির সামনের বাঁ পা আটকে যায়। পরদিন ৪ জানুয়ারি তাকে উদ্ধার করা হয়। ফাঁদে দীর্ঘ সময় ছটফট করায় পায়ের চামড়া, পেশি ও শিরায় গুরুতর ক্ষতি হয় এবং সেখানে সংক্রমণও দেখা দেয়।
খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের একটি ভেটেরিনারি বোর্ড বাঘিনীটির চিকিৎসা করে। অ্যান্টিবায়োটিক, নিয়মিত ক্ষত ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যায় মার্চের মধ্যে ক্ষত শুকিয়ে আসে। পরে আক্রান্ত অংশে আবার লোম গজায়। এখন তার ওজন প্রায় ৯০ কেজি এবং শিকার করার সক্ষমতাও ফিরে এসেছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
রোববার সকালে নদীপথে খুলনা থেকে আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বাঘিনীটিকে। খাঁচার দরজা খোলার পর কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকলেও পরে সেটি ধীরে ধীরে বনের ভেতরে ঢুকে যায়।
বাঘিনীটিকে স্যাটেলাইট কলার বা মাইক্রোচিপ পরিয়ে নজরদারির প্রস্তাব ছিল। কেউ কেউ তার বয়স বিবেচনায় সাফারি পার্কে রাখার পরামর্শও দেন। তবে যন্ত্রপাতি সময়মতো আমদানি করা না যাওয়ায় এবং বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত তাকে প্রাকৃতিক আবাসে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘিনীটির পেছনে মাসে ২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছিল। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি টাটকা মাংসও দিতে হচ্ছিল।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপের রেকর্ডে একই বাঘিনীকে সুন্দরবনের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় তিনবার শনাক্ত করা হয়েছিল। বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার কাজ তদারকিতে ভেটেরিনারিয়ান, বাঘ বিশেষজ্ঞ ও বন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে গুরুতর আহত একটি বাঘকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর আবার বনে ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। একই সঙ্গে এ ঘটনা সুন্দরবনে হরিণ ধরার অবৈধ ফাঁদের ঝুঁকিকেও নতুন করে সামনে এনেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ফাঁদ শুধু বাঘের জন্যই নয়, সুন্দরবনের সামগ্রিক বন্য প্রাণী ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি।





