আজ (বুধবার, ৮ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ জুলাই থেকে বাংলাদেশের জন্য আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘খুব শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, জাপান ও মরিশাসের শ্রমবাজার নিয়েও সুখবর আসবে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অগ্রগতি এসেছে। সরকারের আশা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো কস্ট) বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো শুরু হবে।
আরও পড়ুন:
এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিগত সময়ের মতো এবার মালয়েশিয়া নয়, বরং বাংলাদেশ সরকার নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জিইয়ে থাকা সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছে সরকার। তবে অভিবাসন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে; তা না হলে ভবিষ্যতে আবারও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়। ২০১৬ সালে তা আবার চালু হলেও ২০১৮ সালে আবারও কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেশটি। পরবর্তীতে ২০২২ সালের আগস্টে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ২০২৪ সালে ভিসা ও ছাড়পত্র পেয়েও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পাঠানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। বাকিদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সরকার আশা করছে, নতুন এই নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের এক বিশাল নতুন দিগন্ত তৈরি হবে।





