বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সরকারের উদ্যোগ; সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার দাবি বিশেষজ্ঞদের

রাজধানীর যানজট
রাজধানীর যানজট | ছবি : এখন টিভি
0

যানজট নিরসনে রাজধানীর ৪টি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, নতুন স্থানে গড়ে ওঠা টার্মিনাল মূলত বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হবে, আর বিদ্যমান টার্মিনাল থাকবে কেবল যাত্রী ওঠা-নামার জন্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না।

৪০০ বর্গ কিলোমিটারের মেগাসিটি ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষের বাস। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ মানুষ এ শহরে প্রবেশ করে আবার কাজ শেষে বেরিয়ে যায়। বিপুল এই মানুষের যাতায়াত সামাল দেয় মহানগরীর প্রায় কেন্দ্রে থাকা চারটি বাস টার্মিনাল, যানজটের এই শহরে যা একেকটি বিষফোঁড়ার মতো। অবস্থার উত্তরণে সম্প্রতি টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানায় সরকার।

পথচারীদের একজন বলেন, ‘তাদের কোনো চিন্তাভাবনা নেই যে, পেছনে গাড়ি আছে, আমার জন্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এরকম কোনো মাথা থাকে না। ওরা যে যেখানে পায় সেখানে সাইড করে, সাইড অনেকে করেও না। রাস্তার মাঝখানে যাত্রী তোলে এবং নামায়।’

যাত্রীদের একজন বলেন, ‘অনেক সময় ৪০ মিনিট, এক ঘণ্টা এরকম বসে থাকতে হয়। এ সময়ে আমার কলেজে যাইতে দেরি হয়, পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। আবার একটা ভোগান্তিও পোহাতে হয় আমাদের।’

নতুন এ সিদ্ধান্তে পরিবহন মালিক- শ্রমিকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তারা বলছেন, টার্মিনালগুলো শুধু সরিয়ে নিলেই হবে না গড়ে তুলতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার উপযোগী করে।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আগে ফুলবাড়িয়া থেকে যখন সায়েদাবাদ, গাবতলি, মহাখালী করা হয়, এগুলি কিন্তু আধুনিক সুযোগ সম্বলিতভাবে আরও বহুতল করে বেশি গাড়ি ধরার ব্যবস্থাপনার করে এবং বিদেশে অনেক মডার্ন টার্মিনাল আছে যেখানে অল্প জায়গায় বেশি গাড়ি এবং যাত্রীর সংকুলান করা যায়, ব্যবস্থাপনায় আনা যায়। এখন ওই জিনিসটার দিকেই যাচ্ছি।’

তবে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী- বিদ্যমান টার্মিনালগুলো শুধু যাত্রী ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত হবে, আর সরিয়ে নেয়া স্থানে নির্মাণ করা হবে ডিপো, যেখানে আপাতত শুধু বাস রাখা হবে। তবে ভবিষ্যতে যাত্রী ওঠানামাসহ সব কিছুই হবে ডিপো থেকে।

সড়ক পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘ওয়েটিং বাস ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে টার্মিনাল, এ থাকবে না। সেগুলো ওই ডিপোগুলিতে ডিপো বাস স্ট্যান্ডগুলো নতুন নতুন যে জায়গাগুলো আমরা তৈরি করছি, সেই জায়গায় বাসগুলো চলে যাবে। তাতে করে হচ্ছে কি যে বাসগুলি যাত্রী নিবে, সে তখন স্টেশনে আসবে হয়তো বা সে আধা ঘণ্টা বা ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রী নিয়ে আবার চলে যাবে। তবে এ কাজগুলি বাস্তবায়ন হইতে হয়তো বা ছয় মাস এক বছর লাগবে আরও। তার পরবর্তীতে আমরা পরিপূর্ণভাবে যখন সেগুলি প্রস্তুত হবে তখন আমরা পরিপূর্ণভাবে সেখানে শিফটিং করব।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে সড়ক দখল করে বাস পার্কিংয়ের প্রবণতা কমবে। তবে দূরপাল্লার বাস নগরে প্রবেশের সুযোগ থাকলে যানজট কমবে না বলেও মত অনেকের।

সড়ক যোগাযোগ ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘টার্মিনালের ভিতরে যদি পরিবেশ তৈরি করা যায়, তাহলে যাত্রীরা টার্মিনালের ভিতরে থাকবে। ডিপো থেকে বাস এসে যাত্রীদেরকে নিয়ে গন্তব্যে চলে যাবে। আবার ফিরতি পথে টার্মিনালে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাস ডিপোতে চলে যাবে। এ মডেলটা যদি আসলে আইডিয়ালি আদর্শভাবে তৈরি করা যায়, আমার ধারণা ঢাকার যানজট ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাবে।’

সড়ক যোগাযোগ ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘সবগুলা গাড়ি চতুর্দিক থেকে শহরের ভিতরে ঢুকবে, যাত্রী নামায় দিয়ে আবার যাত্রী নিয়ে ওরা চলে যাবে, তাইলে যানজট আপনার নিরসন হবে না। গাড়িগুলো ওই পেরিফেরিয়ার যেই আমরা টার্মিনালগুলো করছি, ওখানে এসেই তারা তাদের যাতায়াত শেষ করবে। তারা যাতে ভিতরে ঢুকে আর যানজট না বাড়ায়।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে এবং পরে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে টঙ্গীতে। ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে, গাবতলি টার্মিনাল নেয়া হবে হেমায়েতপুরে। আর সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

এফএস