আজ (২১ জুন) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। যদিও এটি দেশে কোনো সরকারি দিবস নয়, তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। অনেকেই এদিন বাবাকে উপহার দেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও ভালোবাসার বার্তা প্রকাশ করেন।
বিশ্ব বাবা দিবসের যাত্রা শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে প্রথমবারের মতো বাবাদের স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে দিবসটিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সোনোরা স্মার্ট ডড-এর।
মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তুলেছিলেন। বাবার সেই অসাধারণ ত্যাগ ও দায়িত্ববোধে অনুপ্রাণিত হয়ে ডড মনে করেন, মায়েদের জন্য যেমন একটি বিশেষ দিন রয়েছে, তেমনি বাবাদের জন্যও একটি দিন থাকা উচিত। তার উদ্যোগেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালন করা হয়।
আরও পড়ুন:
এরপর ধীরে ধীরে দিবসটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাবা দিবসকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ দিবসটি পালনের প্রতি সমর্থন জানান। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে বাবা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সবশেষে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আইনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবসকে স্থায়ী জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। যদিও কিছু দেশে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কারণে ভিন্ন তারিখে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনের এই সময়ে বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এমন একটি দিন পারিবারিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তবে শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনই বাবার প্রতি সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশের হওয়া উচিত। কারণ একজন বাবা তার সন্তানের জীবনে শুধু অভিভাবক নন, তিনি প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।





