বাজারে অবৈধ ফোনের আধিক্য; বিপাকে বৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীরা

স্মার্টফোনের মার্কেট
স্মার্টফোনের মার্কেট | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে ১২ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে মুঠোফোনের চাহিদা বেড়েছে। মূলত যারা কিছুটা সাশ্রয়ে একটু বেশি ফিচারসমৃদ্ধ মুঠোফোন চান সেসব ক্রেতাদের এমন ফোনে আগ্রহ বেশি। দেশে প্রায় সব কোম্পানির শতভাগ স্মার্টফোন অ্যাসেম্বলিং হলেও অবৈধ ফোনের দৌরাত্ম্য প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি। যা বৈধ স্মার্টফোনের বাজারে তৈরি করছে চ্যালেঞ্জ। তাই এসব ফোনের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

যেই মোবাইল ফোন একসময় ছিলো বিলাসী পণ্য এখন সেটি নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটায়। মোবাইল ফোন ছাড়া একটি দিন চলার কথা চিন্তাই করা যায় না।

দেশে প্রায় ১৭টি প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন এসেম্বলিং করে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাজেট ফোনের। সাধারণত ১২ থেকে ৩০ হাজারের মধ্যেই এসব ফোন বিক্রি হচ্ছে বাজারে। চাহিদার শীর্ষে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর ফোনে। বিশেষ করে শাওমি, রিয়েলমি, ভিভো, অপ্পো, ইনফিনিক্স ও টেকনোর বাজেট সিরিজের মোবাইল ফোনগুলোর বিক্রি বেশি। তবে চাহিদা আছে স্যামসং ফোনেরও।

ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘রেডমি টার্বো ৪ টা নিলাম। আমার বাজেটের মধ্যে খুবই ভালো এবং এটা হচ্ছে আমি অনলাইনে বিভিন্ন জায়গায় দেখছি এবং দেখার পরে দেখলাম যে এখানে মোটামুটি হচ্ছে ভালো একটা প্রাইসে পাওয়া যাচ্ছে।’

বিটিআরসির হিসেবে, ‘আনঅফিসিয়াল’ নামে ৬০ শতাংশের বেশি অননুমোদিত স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে বাজারে। অফিসিয়াল ফোনের তুলনায় এসব ফোন প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে পাওয়া যায়।

বিক্রেতাদের একজন বলেন, ‘৪ জিবি র‍্যামের ফোন পাওয়া যাচ্ছিল আগে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। এখন ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা তারা দাম বাড়াইছে। এজন্য গ্রে বাজারটা বেশি তারা ঝুঁকছে।’

আরও পড়ুন:

অন্য আরেকজন বলেন, ‘রেডমি টার্বো ৪ প্রো টাই। ওইটা যদি বাংলাদেশে অফিশিয়ালি হিসেবে আসতো ওইটা ৬৫ থেকে ৭০ এর মধ্যে প্রাইস রেঞ্জ থাকতো। বাট ওইটা আমরা আনঅফিসিয়ালিভাবে মানে ৩৭ হাজার থেকে ৪০ হাজারের মধ্যে পাচ্ছি।’

ফোরজি ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ায় অনলাইনভিত্তিক কাজ ও বিনোদনের জন্য স্মার্টফোন এখন প্রয়োজনীয় ডিভাইস। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বাজেট স্মার্টফোন নির্মাতারা। যদিও অননুমোদিত ফোনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তাই এসব ফোনের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ এই বিশ্লেষকের।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক আরিফ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘দেশের বাইরে আপনি প্রতি মাসে যাচ্ছেন, দুইটা করে আনলেও তো আপনি প্রতি মাসে পাঁচটা ফোন, ১০ টা ফোন আনতেই পারেন। তো সে ক্ষেত্রে এই জিনিস আনার পরেও যাতে এই জিনিসটাকে সরকারের অধীনে রেজিস্ট্রেশনটা যাতে করতে পারে, এনইআর-এ যাতে ইনক্লুড করতে পারে সেই অপশনটা আপনি রাখতে পারেন। রাখার পরে দেন হচ্ছে আপনি এই জিনিসগুলোকে চাইলে আপনি মানে সমস্যাটা যেটা তৈরি হচ্ছে সেটাকে আপনি কমায় নিয়ে আসতে পারবেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরেও দেশের স্মার্টফোনের বাজারে বাজেট ও মিডরেঞ্জ ফোনের আধিপত্য বজায় থাকবে। কারণ শুধু ব্র্যান্ড নয়, মোবাইল ফোনের দামের বিপরীতে কি সুবিধা পাচ্ছেন সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা।

এফএস