জানা যায়, নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় উচ্ছ্বসিত নজরুল প্রেমী ও অনুরাগীরা। এতে প্রাণোচ্ছল ও উজ্জীবিত বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও। অনুষ্ঠানকে সফল করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বর্ণিল সাজে সেজেছে ত্রিশাল।
এর মধ্যে সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ, দরিরামপুর, কাজীর শিমলা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলছে সাজসজ্জার কাজ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জা ও তোরণে সেজে উঠেছে পুরো উপজেলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়িয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বইছে প্রাণচাঞ্চল্য। শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আয়োজন করছে কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সঙ্গীত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে। নজরুল প্রেমীদের প্রত্যাশা, এবারের আয়োজন ত্রিশালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে দেশব্যাপী তুলে ধরবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কথা ছিল আগামী ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ) জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে ঈদুল আজহার ছুটিকে সামনে রেখে বাড়ী ফেরা মানুষের যাত্রা বিড়ম্বনা এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ২৩ মে থেকে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন পর এই আয়োজন বাস্তবায়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি জাতীয় সংসদে একাধিকবার জোরালোভাবে দাবি তোলেন, যেন কবি নজরুলের স্মৃতিধন্য ত্রিশালেই জাতীয়ভাবে জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। তার এই দাবির প্রেক্ষিতেই দীর্ঘ সময় পর আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিশালে জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
ত্রিশাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহিদ আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর জাতীয় পর্যায়ে এমন আয়োজন ত্রিশালের জন্য গৌরবের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। আমরা আশা করছি, এ আয়োজনের মাধ্যমে ত্রিশালের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বেশি করে জাতীয়ভাবে পরিচিতি পাবে।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম বলেন, ত্রিশাল উপজেলাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য জনপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবির কৈশোর ও যৌবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এ ত্রিশালেই অতিবাহিত হয়েছে।
কবির জীবনের দীর্ঘতম সময় কেটেছে ত্রিশালে। টানা প্রায় দেড় বছর ত্রিশালেই অবস্থান করেছিলেন তিনি। এছাড়া অন্য যেসব স্থানে তিনি গেছেন, সেগুলোতে তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময় অবস্থান করেছেন তিনি। তাই নজরুল চর্চা ও তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ত্রিশালের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বইছে। ইতোমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই ময়মনসিংহবাসীরও তাঁর কাছে কিছু প্রত্যাশা ও দাবি রয়েছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় সড়কপথে ঢাকার ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ১২টায় ত্রিশালের বালর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে খাল খননের উদ্বোধন করবেন। পরে বেলা ২টায় ত্রিশালের নজরুল ডাকবাংলোতে বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল ৫টায় ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।—বাসস





