দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
0

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) দীর্ঘ ও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিশাল বাহিনীর সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ভবিষ্যতে এ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজ (বুধবার, ২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহিদ হয়েছেন। স্বাধীনতোত্তর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আনসার ও ভিডিপিকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সময় এই বাহিনীকে একটি স্বতন্ত্র ‘‘শৃঙ্খলা বাহিনীর’’ মর্যাদা দেয়া হয়, যা এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় সময়ে থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চেইন অফ কমান্ড ও ডিসিপ্লিন অপরিহার্য। এতে সামান্য অবহেলা হলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়, যা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত থেকে সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করছে। এছাড়াও ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত।

বাহিনীটিকে আধুনিক করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং ‘এভিজবস’ পোর্টালের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জাপানি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ৬জি ওয়েল্ডিংয়ের মতো আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হচ্ছে। ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা-২০২৬’, ‘ভিডিপি প্রবিধানমালা-২০২৬’ এবং ‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা-২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আনসার বাহিনীর ১৫ জন ক্রীড়াবিদকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘স্পোর্টস কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

এনএইচ