সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা, দালালের দাপট; প্রশ্নবিদ্ধ এনআইডি সেবা

এনআইডি সংশোধন করছেন
এনআইডি সংশোধন করছেন | ছবি: এখন টিভি
0

বিভিন্ন জেলা-উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে ইসি সচিবালয়-এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তির চিত্র সবখানেই। সেই সঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম্য। ৬ মাসের বেশি অপেক্ষা শেষে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন কেউ কেউ। জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকায় মিলছে এনআইডি সংশোধন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনীর ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের ঘোষণা নবনিযুক্ত এনআইডি মহাপরিচালকের। জানান, ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল অটোমেশনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা নেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পরিচয় থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সেবা এমন অন্তত ৩০ এর বেশি কাজের মূল চাবিকাঠি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলের সংশোধন করতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। পদে পদে আছে দালালের দৌরাত্ম্যও। নানান জটিলতায় অপেক্ষার পালা ঘিয়ে ঠেকে মাস ফেরিয়ে বছরেও।

দেশের বিভিন্ন উপজেলা-জেলা নির্বাচন অফিস ঘুরে অনেকেরই শেষ গন্তব্যে ইসি সচিবালয়। এনআইডি সংশোধনে দেখা মিলে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা। তবে এখানে এসেও অনেককেই হতাশ হতে হচ্ছে। সব ধরনের প্রমাণপত্র থাকলেও মিলছে না সমাধান।

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘আমার সাত মাস ধরে একটা কাগজে যদি আটকিয়ে থাকে, তাহলে আমি কীভাবে পাসপোর্ট করবো? এটার জন্য আমি আমার পাসপোর্ট করতে পারতেছি না, আমার অনেক কিছুতে হ্যাসেল হয়ে যাচ্ছে।’

ভুক্তভোগীর একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ দরজায় যায়, ও বলে ওইখানে যান। এখান থেকে বলে নিচ থেকে সাততলায় দেন। ওরা পেয়েছে কী? আমার বয়স কত আপনি বলেন? কতবার আমি এখানে আসতে পারি? আমার কতগুলো টাকা নষ্ট হয়? এরা চেয়ারে বসে বসে চা খাবে আর ঘুমাবে!’

কেউ কেউ আবার ৬ মাসের বেশি অপেক্ষা শেষে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকায় মিলছে এনআইডির সংশোধন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি। বয়স বেধে নেয়া হচ্ছে ফি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দিই। ৬০ হাজার টাকা দিলে আমার তার পরের দিনই কাজ হয়ে যায়। যে লোকের নাম্বার দিছে, তার সঙ্গে আমার কন্টাক্ট হয়েছে। সে আমাকে বলছে—আপনি অপেক্ষা করেন, অফিস টাইমে বের হওয়ার সময় আপনার সঙ্গে আমি ফাইনাল করবো।’

আরও পড়ুন:

এনআইডির এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে বিভাগটির মহাপরিচালক বলছেন, ভোগান্তি এবং দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে অটোমেশনের কথা ভাবা হচ্ছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, ‘হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশনটা যদি কমে যায়, আমরা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে এআই বেজড কিছু সার্ভিস যদি এখানে আমরা অ্যাডপ্ট করতে পারি, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি।’

এনআইডির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক জানান, সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে পুরোদমে চলছে এনআইডি সংক্রান্ত সংশোধনী। শিগগিরই এর সুফল মিলতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সফারিংস কমে যাবে। আর আশা করছি যে আপনি ঘরে বসেই এই সার্ভিসটা যাতে পেয়ে যেতে পারেন, সেভাবেই আমরা চিন্তা করছি।’

একটি নির্ভুল জাতীয় পরিচয়পত্র নাগরিকের অন্যতম অধিকার। কিন্তু সেটি পেতে গিয়ে পদে পদে যেন ভোগান্তির শেষ নেই। সামান্যতম নামের বানান ভুল, কিংবা বয়সের অসংগতির ফলে যে ধরনের সংশোধনীগুলো পড়ে নির্বাচন কমিশনে সেটির পর্যায় গিয়ে ঠেকেছে আমি-তুমি-আমরা পর্যায়ে।

যদিও ইসি বলছে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো শিগগিরই সমাধানে কাজ চলছে। সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসে মানুষ এসব সমস্যা থেকে রেহায় পায় সেটি নিয়ে কাজ করছে বর্তমান কমিশন।

এফএস