ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অভিবেশনের ২০তম দিন বিকালে সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
রুমিন ফারহানা তার সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যেহেতু দেশের অন্যান্য এলাকায়, সব এলাকায় যায়, সুতরাং আমার দাবি থাকবে; গ্যাস আগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তারপর অন্য এলাকায় যাবে। সম্প্রতি তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ৩১ নম্বর একটা কূপ খনন হচ্ছে, যেখান থেকে দৈনিক ৯ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে শোনা যাচ্ছে। আমি আশা করবো, এই নতুন যে কূপ ৩১ নম্বর কূপ, যেটা তিতাস গ্যাস ফিল্ডে খোড়া হচ্ছে, সেই গ্যাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে।’
ব্রহ্মণবাড়িয়ার শিল্প ও ঐহিত্য তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কিংবা সচীন দেব বর্মনের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কীর্তন আর বাউলে গানের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নানামুখী মিষ্টির অপূর্ব স্বাদের দেশ আমার বাহ্মণবাড়িয়া, দিগন্তজোড়া হাওরের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আবার তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার দেশও কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এই মাটিতে একদিকে যেমন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ বা সচীন দেব হয়েছে, তেমনই এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বা অলি আহাদের মতো সংগ্রামী চরিত্র; যাদের কল্যাণে বাংলা আজ আমাদের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।’
গ্যাস সংসটের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর অন্তর্গত আশুগঞ্জ একটি শিল্পনগরী। এখানে আছে সার কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চালকল, মিল ফ্যাক্টরি, আছে বন্দর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা বাংলাদেশে, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না। তিতাস গ্যাস ফিল্ড বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বর্তমানে ২২টি কূপের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৯৯১ সালে সরাইল উপজেলা সদর ইউনিয়নে গ্যাসের সংযোগ দেয়া হয়। শুরুর দিকে গ্রাহক ছিল ১ হাজার। বর্তমানে কাগজে-কলমে ৫ হাজার কিন্তু অবৈধ সংযোগ, যদি আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করি তাহলে প্রায় আট থেকে ৯ হাজার। কিন্তু প্রত্যেক গ্রাহকই আছে চরম গ্যাসের সংকটে। সরাইল সদরে দেড় কিলোমিটার এলাকায় ছয় ইঞ্চি এবং এক কিলোমিটার এলাকায় চার ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে গ্যাস সঞ্চালন লাইন টানা হয়েছে। এরপরে পাড়ায় পাড়ায় দুই ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের কোনও চাপ থাকে না। চুলা মিটমিট করে জ্বলে। এরপর মন চাইলে গ্যাস আসে এক ঘণ্টার জন্য। তারপরে আবার রাত পর্যন্ত গ্যাসের কোনো খবর নাই। দেশে গ্যাসের সংকট আছে। তার ওপরে শীতকালে গ্যাসের চাপ আরও বাড়ে। অন্যদিকে আছে অবৈধ সংযোগ। বাকরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, লোকপালের অভাবসহ নানা সংকটে তাদের তদারোগ করা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।’
আরও পড়ুন:
রুমিন ফারহানা গ্যাস সংকটের বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, ‘২০২৬ সালে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ হলেও এখনও কিন্তু অসাধু কর্মকর্তাদের সাহায্যে বেশ কিছু মানুষ বাড়িতে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ নিয়ে রেখেছে। সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে এবং যাদের বাড়িতে সত্যিকারের লাইন আছে তারাও গ্যাস পাচ্ছে না। শেষমেষ মাটির চুলা, এলপিজি সিলিন্ডার আর বৈদ্যুতিক চুলা ভরসা। কিন্তু আমাদের জীবনমানের এখন এমন উন্নয়ন হয়েছে যে গ্রাম বা মফস্বল এলাকাতেও এখন কিন্তু মানুষ ফ্ল্যাটে থাকে। পাকা বাড়িতে থাকে। উঠান এখন অনেকটাই বিলাসিতা। সুতরাং, মাটির চুলায় রান্না করা বাস্তবতা বিবর্জিত। অন্যদিকে যদি আমরা এলপিজির দিকে তাকাই ১৯৪০ টাকায় সিলিন্ডার বলে বটে তবে ২২০০ টাকার নিচে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আর আমরা যদি বিদ্যুতের চুলার কথা বলি তাহলে বলতে হয়, ঢাকা শহরে এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে কিন্তু গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়।’
রুমিন ফারহানা সংসদে দাবি করে বলেন, ‘গ্যাস ছাড়া আমাদের আসলে এই মুহূর্তে সত্যিকার অর্থে চুলা জ্বালাবার মতো জ্বালানি নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যেহেতু দেশের অন্যান্য এলাকায়, সব এলাকায় যায়, সুতরাং আমার দাবি থাকবে– আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তারপরে এটি অন্য এলাকায় যাবে। সম্প্রতি তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ৩১ নম্বর একটা কূপ খনন হচ্ছে, যেখান থেকে দৈনিক ৯ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে শোনা যাচ্ছে। আমি আশা করবো, এই নতুন যে কূপ ৩১ নম্বর কূপ, যেটা তিতাস গ্যাস ফিল্ডে খোঁড়া হচ্ছে, সেই গ্যাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে।’





