আশকোনা হজক্যাম্পে চুরি: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা

আশকোনা হজক্যাম্পে চুরি
আশকোনা হজক্যাম্পে চুরি | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের ব্যস্ততার মধ্যেই চুরির ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি ব্যাগ নিয়ে কৌশলে ক্যাম্প ত্যাগ করছেন, যেখানে ছিল এক দম্পতির প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। পরে ব্যাগটি উদ্ধার হলেও টাকা পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আশকোনা হজক্যাম্প, সকাল পৌনে ৮টা। নিজ নিজ প্রস্তুতি ও কাজে ব্যস্ত হজযাত্রীরা। সেই ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পাঞ্জাবি দিয়ে ঢেকে একটি ব্যাগ নিয়ে দ্রুত সরে পড়ছেন ঘটনাস্থল থেকে।

ব্যাগটি ছিল হজে যাওয়া দম্পতি ইমরান আলী ও শাহানা বেগমের। সেখানে ছিল ২২ হাজার রিয়াল ও ১০ হাজার টাকা। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। কিছুক্ষণ পর একই ব্যক্তিকে ক্যাম্পের অজুখানায় ব্যাগটি রেখে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, ব্যাগ থেকে নগদ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে, অবশিষ্ট রয়েছে শুধু ব্যাংক কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র।

ইমরান আলী বলেন, ‘আমি এহরাম পরা অবস্থায় ব্যাগটা নিয়া বাথরুমে ফালায়া রাইখা গেছি। এখন এটা মাইকিং করানোর ওই জায়গায় জমা দিছে। জমা দেয়ার পরে দেখি এটার ভেতর শুধু পাসপোর্ট আর ভিসা আছে, আর কিছুই নাই। আর ক্রেডিট কার্ড দুইটা আছে।’

আরও পড়ুন:

আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করছেন। নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্য, হজযাত্রীর বেশেই তারা ক্যাম্পে প্রবেশ করেছিলেন।

এ ঘটনায় উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন। যেখানে ক্যাম্পে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক কার্ড প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে, সেখানে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটলো তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হজ অফিসের পরিচালক।

আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে নিয়ে আমরা কিন্তু এই বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, যাতে এই ঘটনার সুষ্ঠুভাবে উদঘাটন করে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনা যায়।’

তবে এই ঘটনার মাঝেও হজযাত্রার অন্যান্য কার্যক্রম চলছে নির্বিঘ্নেই। যাত্রীরা বলছেন, তাদের একটাই প্রত্যাশা, পূর্ণতা পাক হজ, আর জীবনে ও সমাজে ফিরে আসুক শান্তি ও শৃঙ্খলা।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আল্লাহর রাজিখুশির জন্য আমি হজে যাচ্ছি, নিয়ত করছি। আমি এবং আমার ওয়াইফ আর আমার আত্মীয়-স্বজন আছে একসঙ্গে আমরা সাতজন যাচ্ছি।’

অন্য একজন বলেন, ‘কোনো সমস্যা নাই আমাদের। আমরা সুন্দরভাবে আসতে পারলাম এবং এখানকার পরিবেশও সুন্দর লাগতেছে।’

হজযাত্রী একজন বলেন, ‘গুনাহ, পাপ সবকিছু এবং শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি, কল্যাণ বয়ে আসুক—এটা আমাদের কামনা।’

এদিকে যাত্রাপথে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে রোমিং সেবা চালু করেছে গ্রামীণফোন। নিজের সিম ব্যবহার করেই সৌদি আরব থেকে দেশে কথা বলতে পারছেন হাজিরা, যা তাদের মনে এনে দিয়েছে বাড়তি স্বস্তি।

হজযাত্রার পঞ্চম দিনে ১১টি ফ্লাইটে সৌদি আরব যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার হজযাত্রী। এখন পর্যন্ত ৫৮টি ফ্লাইটে পৌঁছেছেন ২৩ হাজার ২৭৮ জন।

এসএস