এদিন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের বোর্ড ভাইস চেয়ার ডায়ানা হুইলার বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কলেজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠক করেন।
তারা আশা প্রকাশ করে যে, এ শক্তিশালী সহযোগিতা প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে এবং দেশব্যাপী দৃষ্টিসেবার মান উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখবে।
বৈঠকে বিসিপিএসের প্রতিনিধিত্ব করেন কলেজের সচিব অধ্যাপক আবুল বাশার মো. জামাল এবং পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
হুইলার চক্ষু চিকিৎসকদের জন্য বিসিপিএসের বিভিন্ন সেবা ও একাডেমিক প্রোগ্রাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পেশাদারিত্বের প্রতি নিষ্ঠা ও বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসকদের শিক্ষাদানে অবদানের জন্য কলেজের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চক্ষুসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে চক্ষু চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিসিপিএস যেসব সুবিধা ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ।’
হুইলার বলেন, ‘টেকসই চক্ষুসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানসম্মত চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে নেওয়া উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে যাবে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল।’
মডিউলার স্মল ইনসিশন ক্যাটারেক্ট সার্জারি (এমএসআইসিএস) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণকে উন্নত করতে বিসিপিএসের সঙ্গে সহযোগিতা করছে অরবিস। এ সহযোগিতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফান্ডামেন্টাল ভিআর সিমুলেশনের পাশাপাশি সাইবারসাইট কোর্স, যা প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে চক্ষু চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে।
স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং উন্নত সিমুলেশন প্রযুক্তির ব্যবহার চক্ষু চিকিৎসকদের উচ্চ-মানের সেবা প্রদানে সক্ষম করে তুলছে, যার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে সকল জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চক্ষুসেবার সুযোগ গড়ে উঠছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মুনির আহমেদও বক্তব্য রাখেন। এখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিপিএসের শিক্ষক এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অরবিসের কর্মসূচি দেখার জন্য ডায়ানা হুইলার চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। রংপুরের দীপ আই কেয়ার ফাউন্ডেশন-বাস্তবায়িত এবং নারী-নেতৃত্বে পরিচালিত কয়েকটি গ্রিন ভিশন সেন্টার পরিদর্শন করতে গত বৃহস্পতিবার তিনি নীলফামারী ও রংপুরে যান। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য অরবিস ৩২টি নারী-নেতৃত্বাধীন ভিশন সেন্টারসহ মোট ৫৮টি ভিশন সেন্টার স্থাপন করেছে।
এছাড়াা হুইলার বাংলাদেশে বৃহত্তম চলমান ছানি সেবা প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন, যেটি ৫৯টি জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দুই বছরের মধ্যে ১ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার এবং ১০ লাখ চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করা।





