মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর হতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও উপযুক্ততা যাচাইপূর্বক ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) সনদপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সুপরিসর বিমান অবতরণ ও উড্ডয়ন নিশ্চিতকরণসহ অপারেশনাল সুবিধাদি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রানওয়ে সমুদ্রের দিকে ৯ হাজার ফুট হতে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে বর্ধিত করা হয়েছে; কক্সবাজার বিমানবন্দর হতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সব অপারেশনাল সুবিধাদিসহ টেস্টিং, কমিশনিং করে পুরোদমে চালু করার কার্যক্রম চলমান।
বিরোধীদলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণ পৃথক পৃথক প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর হিসেবে চালুর জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে।’
আরও পড়ুন:
সরকার দলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইট পরিচালনা ছাড়াও দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সসমূহকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিষেবা দিয়ে থাকে। সার্বিকভাবে বিমান একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তবে অপারেশনাল কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং উন্নততর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ স্বল্পতা রয়েছে। বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য এ সমস্যা নিরসন করা প্রয়োজন। এ সমস্যা সমাধানেকল্পে বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজিত হলে আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিমান লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিমানের নেটওয়ার্ক ও ফ্লিট প্ল্যান অনুযায়ী বহরে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন এবং পুরাতন উড়োজাহাজসমূহ পর্যায়ক্রমে বহর থেকে বাদ দেয়ার পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে সংযোজনের পূর্বের সময়ে লিজ ভিত্তিতে উড়োজাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান।’
আরও পড়ুন:
বিমাননের ফ্লাইট পরিচালনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান উন্নীতকরণে কর্মীদের আচরণগত পরিবর্তনসহ নিবিড় তদারকির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করে টিকিট সংগ্রহে যাত্রীদের হয়রানি অনেকাংশে লাঘব করা হয়েছে। অপর্যাপ্ত সংখ্যক উড়োজাহাজ থাকা সত্ত্বেও বিমান অন টাইম পারফমেন্স (ওটিপি) অর্জনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৮০ শতাংশ ওটিপি অর্জিত হয়েছে।
এনসিপির সংসদ আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও স্টালপোর্ট হতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর প্রস্তাবনা রয়েছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব অনুসারে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্বারা বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে নোয়াখালী জেলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করতে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বেবিচক কর্তৃক গঠিত কমিটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে জিটুজিতে তিনটি ড্যাশ৮-৪০০ উড়োজাহাজ ২০২০ সালের নভেম্বর হতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিমান বহরে যুক্ত হয়। ২০১৯ সাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটো বোয়িং ৭৮৭-৯ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিমানের বহরে যুক্ত হয়। উড়োজাহাজসমূহ ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কিত বিমানের কাছে কোনো তথ্য নেই।’




