‘ফুয়েল পাস’: তেল সংকটে ডিজিটাল সমাধানের পথে সরকার

কিউআর কোড ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন
কিউআর কোড ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন | ছবি: এখন টিভি
0

পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন, এরপরও কাঙ্ক্ষিত তেল মিলছে না। অন্যদিকে প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে ঘরে মজুত রাখছেন অনেকে। এই দুই সংকট একসঙ্গে সামলাতে এবার ডিজিটাল পথে হাঁটছে সরকার, আসছে ‘ফুয়েল পাস’। রাজধানীতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা ও যাচাই-বাছাই করেন সরকারি কর্মকর্তারা।

তেলের পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইনের চিত্র প্রতিদিনরে। চার লিটার অকটেন কিনতে কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।

তবে আতঙ্কিত হয়ে বহু চালক একবার তেল নিয়ে আরেকবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। সংকটের আশঙ্কায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে ঘরে মজুত করছেন অনেকে, যার প্রভাবে কৃত্রিম সংকটে পড়ছেন সাধারণ চালকরা।

গ্রাহকদের একজন বলেন, ‘আমার চার লিটার তেলে ১ সপ্তাহ চলে যায়। এখন চার লিটার তেল পেয়েছি। পরের সপ্তাহে আবার তেল নিতে আসবো।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘অনেকে তেল থাকার পরও তেল নিতে আসে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। গেটের সমনে কেউ একজন এ বিষয়টি চেক করতে হবে। যারা অতিরিক্ত তেল নিতে আসবে তাদের বের করে দেয়া হোক।’

আরও পড়ুন:

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার নিয়ে আসছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’। জ্বালানি বিভাগ জানাচ্ছে, প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য তৈরি হবে একটি আলাদা কিউআর কোড। ফিলিং স্টেশনে তেল নেয়ার সময় পাম্পকর্মী সেই কোড স্ক্যান করবেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ হবে কে, কখন, কতটুকু তেল নিচ্ছেন। এতে নির্ধারিত সীমার বেশি তেল নেয়া যাবে না।

প্রথম ধাপে মোটরসাইকেলকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে শুরু হলো ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। পাম্পে আসা চালকদের স্মার্টফোনে অ্যাপ ইনস্টল এবং কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেল বিক্রির এই প্রক্রিয়া যাচাই করেন কর্মকর্তারা।

ফুয়েল পাস চালু হলে পাম্পে লাইন কমবে, মজুতদারি নিয়ন্ত্রণে আসবে, সংশ্লিষ্টদের এমনটাই প্রত্যাশা।

এফএস