জ্বালানি সংকট: ফিলিং স্টেশন এলাকায় যানজট, বিপাকে রাইডশেয়ার চালকরা

ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি
ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি | ছবি: এখন টিভি
0

জ্বালানি সংকটে প্রধান সড়কের যানজট এখন ফিলিং স্টেশন এলাকায়। তেল নিতে গিয়ে সড়ক থেকে কমে গেছে গণপরিবহনও। বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বিপাকে পেশাজীবীসহ রাইডশেয়ার চালকরা। দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পে থাকায় কমছে কর্মঘণ্টা এবং আয়ও।

শায়লা ইসলাম নামের একজন গৃহীনী নারী দুই বাচ্চাকে স্কুল থেকে নেয়ার পথে আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তেলের জন্য। পাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেয়ায় দু’দিন যেতে না যেতেই আবার দাঁড়াতে হচ্ছে চৈত্রের খরতাপ উপেক্ষা করে।

শায়লা ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যাচ্ছে যে, জ্বালানি সংকটের কারণে আমাদের আগের মতো বাসে, রিকশায় যাতায়াত করা লাগে। যখন আমরা তেল নিতে না পারি,এটা অনেক বড় একটা সমস্যা। তবে, আমরা যারা গৃহিনী, তাদের সবকিছুই মেইনটেইন করা লাগে, তাদের জন্য অনেক কষ্টের একটা ব্যাপার।’

শায়লার মতো অনেকেই এমন ভোগাদন্তি পোহাচ্ছেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ভোরের আলো ফোটার আগেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন পাম্পের দীর্ঘ লাইনে। প্রতিদিনই তিন থেকে চার ঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় কর্মস্থলে কাজের সময়ও কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

আরও পড়ুন:

গ্রাহকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের যদি ফুল ট্যাংক দিতো, সেটা আমাদের জন্য ভালো হতো।’

এদিকে তেল নিতে গিয়ে প্রধান প্রধান সড়ক থেকে কমে যাচ্ছে গণপরিবহন। যে কারণে চিরাচরিত যানজট স্থানান্তরিত হয়েছে পাম্প এলাকায়। গাড়ির চাপ, গ্রাহক ও পাম্প কর্মীদের মাঝে হট্টগোল- এসবই এখন নিত্যদিনের চিত্র।

সবচেয়ে বিপাকে রাইডশেয়ার চালকরা। যাত্রী পাওয়ার সময়টা তেল সংগ্রহের পেছনে চলে যাওয়ায় আয়ও কমেছে বলে দাবি তাদের। অফিসগামী অনেকেই তেল নিতে গিয়ে ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছেন না অফিসে।

আরও পড়ুন:

রাইডশেয়ার করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পরিশ্রমটা বেশি হচ্ছে, মানে সারাদিন রাইডশেয়ার করে আবার রাতে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’

কোনো কোনো পাম্পে সকালে ডিপো থেকে তেলের গাড়ি আসায়, ভোগান্তি কিছুটা কমেছে বলে জানান পাম্প কর্তৃপক্ষ।

সমস্যা নিরসনে সরকারের সঠিক তদারকির পাশাপাশি সব পাম্পে তেল সরবরাহ ঠিক রাখার দাবি গ্রাহকদের।

এসএস