২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী | ছবি: এখন টিভি
0

২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রণীত কর্মপরিক্রম বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগাল, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক/চুক্তি সই হয়েছে।’

আজ (রোববার, ৫ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী পাঠানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নানাবিধ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এরইমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ/সংকুচিত শ্রমবাজার- মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগাল, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক/চুক্তি সই হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং অধিকহারে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ে ‘‘জাপান সেল’’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত আসা কর্মীদের পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী শিক্ষা কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এক লাখ ড্রাইভার তৈরির জন্য সরকার ‘‘দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভি প্রশিক্ষণ প্রদান’’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা সফলভাবে চলমান। কম্বোডিয়ার সঙ্গে, জাপানের সঙ্গে স্পেশালাইজ স্কিলড ওয়ার্কার পাঠানোর জন্য মেমোরেন্ডাম অব কো অপারেশন এবং সিশেলসের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট অন লেবার করপোরেশন স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপান স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার সেন্ডিং এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব দক্ষ জনবলের দেশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিএমইটির আওতায় ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিটিটিআই) এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যন্ড স্টিলস সেন্টারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের গন্তব্য দেশের ভাষাগত সমস্যা দূরীকরণে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চাইনিজ (ক্যান্টনিজ ও ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মান ইত্যাদি ভাষার নেটিভ স্পিকার নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

‘সিন্ডিকেট পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে আগ্রহী নয় সরকার’

বর্তমান সরকার অতীতের মতো সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। বর্তমান সরকার কি অতীতের মতো নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে রাজি হবে, নাকি যোগ্য সব এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখবে?’

জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘না, বর্তমান সরকার অতীতের মতো সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে আগ্রহী নয়। বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এ উদ্দেশে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।’

এসএইচ