মানুষ প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে, আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে: নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: প্রধানমন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ
0

জনগণের ভোগান্তি পরিহার করে সুশৃঙ্খলভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (শনিবার, ২৮ মার্চ) নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলকে অত্যন্ত ধৈর্য ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তা বন্ধ করে স্লোগান দেওয়া এবং ভিড় জমানোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যদি রাস্তা এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাতে দলের বদনাম হবে এবং মানুষের কষ্ট হবে। এভাবে প্রতিদিন রাস্তা বন্ধ করা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে আমাকে সাংগঠনিক কাজে অফিসে আসতে হবে। কিন্তু প্রতিদিন যদি রাস্তা এভাবে করে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাতে কিন্তু দলের বদনাম হবে, মানুষের কষ্ট হবে। ঠিক আছে? এভাবে প্রতিদিন রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। যেভাবে সাধারণ স্বাভাবিক বিষয় সেটি আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে যাতে স্বাভাবিক থাকে সবকিছু। অফিসে আমি আরও আসব। কিন্তু এরকম রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আজ যদি এরকম রাস্তা বন্ধ হয় তাহলে আমার পক্ষে অফিসে আসা সম্ভব না। কিন্তু অফিসে আসলে নেতাকর্মী সকলের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা সম্ভব হবে, সাংগঠনিক কাজ করা সম্ভব হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কথা বোঝাতে পেরেছি? রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। যদি আমাকে পল্টন অফিসে দেখতে চান আর সবাই আপনারা... তাহলে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। রাস্তা এরকম বন্ধ করা যাবে না, মানুষের চলাচলে বাধা-বিঘ্ন দেওয়া যাবে না। বোঝা গেছে? তাহলে এখন দয়া করে আগামী আধা ঘণ্টার মধ্যে রাস্তাটা ক্লিয়ার করেন সবাই। রাস্তাটা ক্লিয়ার করেন। আজকে আমি কাজ শেষ করে চলে যাব, আবার আসব এবং স্বাভাবিকভাবে সবকিছু যাতে হয় সেই কাজটা করতে হবে আমাদের। ঠিক আছে? সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আর একটি কথা, মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে। কাজেই এখানে যে সকল নেতাকর্মী আছে, সারা দেশে আমাদের যে সকল নেতাকর্মী আছে, আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে, আমাদের আইন-শৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে এবং আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের সমস্যা হয়, কষ্ট হয়, অসুবিধা হয় সেই জিনিসগুলো করা যাবে না। একইসঙ্গে অনেক সমস্যা আছে দেশে, মানুষকে বোঝাতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, মানুষকে ধৈর্য ধারণ করানো শেখাতে হবে বা ধৈর্য ধারণের সহযোগিতা করতে হবে মানুষকে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘অনেক কাজ আছে আমাদের। এখন প্রথম কাজ হচ্ছে, এক নম্বর কাজ হচ্ছে রাস্তাটা ক্লিয়ার করতে হবে, অফিসে যাতে আমি আসতে পারি। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, আপনাদের সহযোগিতা না থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব না। আপনারা কি চান আমি অফিসে আসি? তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে, পরিবেশটা নরমাল রাখতে হবে। রাখা যাবে সেটা?’

তিনি বলেন, ‘আমি আরও দু-একদিন আসব। আমি দেখব যদি দেখি স্বাভাবিক রেখেছেন তাহলে আমি আসব। আর যদি দেখি স্বাভাবিক রাখেন নাই তাহলে কিন্তু এখানে আমার পক্ষে আসা সম্ভব হবে না। কারণ আমি আসলেই আপনারা যদি এরকম করেন এলাকার মানুষের সমস্যা হবে। এদিক দিয়ে বহু হাজার হাজার মানুষ যাওয়া-আসা করে তাদের সমস্যা হবে। কাজেই আমরা নিশ্চয়ই দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না। তাই তো নাকি? হতে চাই? না হতে চাই না। কিন্তু প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। ঠিক আছে?’

বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের রাস্তার একপাশে সরে গিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন এবং শৃঙ্খলার সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এএইচ