ট্রেনের বগিতে আগুনের ফুলকি আর লোহার ঠোকাঠুকি থামার জো নেই চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে। দেড় মাস ধরে দম ফেলার সময় নেই শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের।
জরাজীর্ণ-ধুলোবালি মাখা একেকটি কোচ এখানে এসে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। কেউ ঠিক করছেন ট্রেনের ব্রেক, কেউ বসাচ্ছেন জানালার কাঁচ , কেউ আবার রং হাতে লাল সবুজের উজ্জ্বলতা ফুটিয়ে তুলছেন।
কোচগুলোকে চলার উপযোগী করার আগে চলে কয়েক দফা পরীক্ষা। কোথাও কোন অসংগতি মানেই হাজারো জীবনের ঝুঁকি। ঈদ উপলক্ষে ১০ মার্চের আগেই ত্রুটি সারিয়ে প্রস্তুত করতে হবে শতাধিক বগি।
বগি প্রস্তুতকারী শ্রমিকরা জানান, প্রশাসনের নির্দেশে ১০৫টি কোচ ঈদের আউট-টার্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে অনেকগুলোর কাজ শেষ হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ১০৫টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০টি কোচ ফিটনেস নিয়ে বের হয়েছে। বাকি ৪৫টি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তুত হবে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে এবার ১৫টি কোচ যুক্ত হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যোগ হবে ৮টি স্পেশাল ট্রেনও। এবার ঈদে ২ থেকে ৩ লাখ যাত্রী ট্রেনে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবেন।
পাহাড়তলী রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা জাকির হাসান বলেন, ‘আমাদের প্রতিবছরই ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে একটা প্রোগ্রাম থাকে। এ প্রোগ্রামটা ঈদের আগে দুই মাসব্যাপী যতগুলো ডিভিশনের যে চাহিদা থাকে তা বিবেচনায় যত বেশি সম্ভব কোচগুলো দেয়ার চেষ্টা করি।’
চট্টগ্রাম থেকে ৬৩ রুটে চলাচল করে বাস। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রীর চলাচল ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে। ঈদে অন্তত ১ লাখ যাত্রী সড়ক পথে চট্টগ্রাম ছাড়ে। যাত্রী চাপ সামলাতে পুরনো গাড়ি মেরামত, রং করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাস মালিকরাও।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি একরামুল করিম বলেন, ‘যেগুলো আছে অলরেডি, শহরে তো ৬টার মতো কোম্পানি এপ্লাই করে তাদের আমরা অনুরোধ করেছি যাতে গাড়িগুলো মেরামত করে অনগোয়িং রাখে।’
সড়কপথে বাড়তি ভাড়া আদায়, যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি চান সাধারণ মানুষ।





