ঈদের অগ্রিম টিকিটের সময়সূচী (একনজরে)
বিষয় (Topic) বিস্তারিত তথ্য (Details) টিকিট বিক্রি শুরুর তারিখ ৩ মার্চ, ২০২৬ (সকাল থেকে) ভ্রমণের সময়সীমা ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত টিকিট কেনার মাধ্যম কাউন্টার এবং অনলাইন (Online) ভাড়ার হার বিআরটিএ (BRTA) নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী
সিদ্ধান্ত ও টিকিট বিক্রির মাধ্যম (Ticket Selling Process)
শনিবার রাজধানীর গাবতলিতে বাংলাদেশ বাস–ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (Bangladesh Bus-Truck Owners Association) এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ৩ মার্চ সকাল থেকে একযোগে বাস কাউন্টার (Bus Counter) এবং অনলাইন (Online)—এই দুই মাধ্যমেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পছন্দের বাস ও আসন নির্বাচন করে টিকিট কিনতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
ভাড়া নির্ধারণ ও বিআরটিএ-র নির্দেশনা (Fare and BRTA Guidelines)
শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ স্পষ্ট করেছেন যে, বিআরটিএ (BRTA) নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এই নিয়ম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর থাকবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি কাউন্টারে বিআরটিএ অনুমোদিত ভাড়ার চার্ট (Fare Chart) টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কালোবাজারি রোধ ও নিরাপত্তা (Security and Anti-Black Marketing)
ঈদের টিকিটের কালোবাজারি (Ticket Black Marketing) ঠেকাতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কাউন্টারে সিসি ক্যামেরা (CCTV Camera) বসানো হয়েছে। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিকিট বিক্রিতে কোনো প্রকার অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের সম্ভাব্য বাস ভাড়া (বিআরটিএ চার্ট)
গন্তব্য (Destination) নন-এসি বাস (Non-AC) এসি বাস (AC - শুরু) ভায়া (Via) ঢাকা - চট্টগ্রাম ৬৮০ - ৭৫০ টাকা ১২০০ - ১৫০০ টাকা কুমিল্লা ঢাকা - সিলেট ৬৫০ - ৭০০ টাকা ১১০০ - ১৪০০ টাকা ভৈরব ঢাকা - রাজশাহী ৭০০ - ৮০০ টাকা ১০০০ - ১৩০০ টাকা বঙ্গবন্ধু সেতু ঢাকা - রংপুর ৮০০ - ৯০০ টাকা ১২০০ - ১৬০০ টাকা বগুড়া ঢাকা - খুলনা ৭৫০ - ৮৫০ টাকা ১৩০০ - ১৭০০ টাকা পদ্মা সেতু ঢাকা - বরিশাল ৬০০ - ৭০০ টাকা ১০০০ - ১২০০ টাকা পদ্মা সেতু ঢাকা - কক্সবাজার ১০০০ - ১১০০ টাকা ১৮০০ - ২৫০০ টাকা চট্টগ্রাম
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি সম্ভাব্য ভাড়ার তালিকা। বাসের মান (ইকোনমি/বিজনেস ক্লাস) এবং বিআরটিএ-র সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়ার কিছুটা তারতম্য হতে পারে। ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকে।
জনপ্রিয় বাস টিকিট বুকিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ (Popular Online Portals)
- ১. সহজ (Shohoz): বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্ম। (shohoz.com)
- ২. বাসবিডি (Busbd): অনেকগুলো শীর্ষস্থানীয় বাস অপারেটর এই পোর্টালে যুক্ত। (busbd.com.bd)
- ৩. পরিবহন (Paribahan): এটিও বেশ পরিচিত একটি টিকিট বুকিং পোর্টাল। (paribahan.com)
- ৪. বিকাশ অ্যাপ (bKash App): বিকাশ অ্যাপের 'টিকেট' (Ticket) অপশনে গিয়ে সরাসরি সহজ বা বাসবিডির মাধ্যমে টিকিট কাটা যায়।
- ৫. নিজস্ব অপারেটর অ্যাপ: হানিফ (Hanif), এনা (Ena), গ্রিন লাইন (Green Line) এবং শ্যামলীর মতো বড় বাস কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকেও টিকিট কাটা যায়।
অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ ধাপ (Step-by-Step Guide)
অনলাইনে ঝামেলাহীনভাবে টিকিট কাটতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন
ধাপ ১: ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ (Visit Website/App): প্রথমে আপনার পছন্দের টিকিট বুকিং পোর্টালে বা অ্যাপে প্রবেশ করুন।
ধাপ ২: গন্তব্য ও তারিখ নির্বাচন (Select Destination & Date): কোথা থেকে যাত্রা শুরু করবেন (From) এবং কোথায় যাবেন (To) তা লিখুন। এরপর আপনার যাত্রার তারিখ (Journey Date) সিলেক্ট করে 'Search' বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: বাস ও সময় নির্বাচন (Choose Bus & Time): সার্চ রেজাল্টে বিভিন্ন বাসের তালিকা দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনার সুবিধাজনক সময় (Departure Time), এসি/নন-এসি এবং বাস কোম্পানির নাম দেখে 'View Seats' বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: আসন নির্বাচন (Select Seat): বাসের ম্যাপ থেকে আপনার পছন্দের খালি আসন (Available Seat) সিলেক্ট করুন। সাধারণত সাদা রঙের সিটগুলো খালি থাকে। এরপর ড্রপিং পয়েন্ট (যেখানে নামবেন) সিলেক্ট করে 'Continue' বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: তথ্য প্রদান (Provide Information): যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল অ্যাড্রেস সঠিকভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৬: পেমেন্ট সম্পন্ন করা (Make Payment): আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করুন।
ধাপ ৭: ই-টিকিট সংগ্রহ (Download E-Ticket): পেমেন্ট সফল হওয়ার পর আপনার মোবাইলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস এবং ইমেইলে একটি ই-টিকিট (E-ticket) আসবে। এটি প্রিন্ট করে বা মোবাইলে দেখিয়ে কাউন্টার থেকে মূল টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।





