আজ (শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে নিজেদের প্রাথমিক প্রতিবেদন গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিরা।
আইভার্স আইজাবস বলেন, ‘২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল বিশ্বাসযোগ্য এবং দক্ষভাবে পরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
এ ঐতিহাসিক নির্বাচন ছিল প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক এবং এখানে মৌলিক অধিকারগুলো ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত ছিল।’
এসময় তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করে অংশীজনদের আস্থা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের সততা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন ধাপে পা দিয়েছে বলেও মনে করে ইইউ পর্যবেক্ষক দল। যদিও বাংলাদেশের মোট ভোটার বিবেচনায় নির্বাচনে নারী প্রার্থী এবং সার্বিক প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
‘মাত্র চার শতাংশ নারী প্রার্থী, নারীদের অংশগ্রহণে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিপরীত’—মন্তব্য করেন ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান পর্যবেক্ষক আইভার্স আইজাবস।
নির্বাচনি প্রচারণার সময় নারীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি। ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, ‘২৭টি জেলায় ২০০টি জায়গায় হামলার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছি।’
আরও পড়ুন:
এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে আরও সচেষ্ট এবং আন্তরিক হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
কিছু নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত হলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলেই মনে করেন ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান টমাস জেডেচোভস্কি।
তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশও পর্যবেক্ষণ করছে ইইউ। দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে করণীয় পরামর্শ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
নতুন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা এবং অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও আশা ইইউ পর্যবেক্ষক দলের। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি ভবিষ্যতে অবশ্যই নজর দেয়া প্রয়োজন।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকা এবং অংশগ্রহণমূলক হওয়া না হওয়া নিয়ে আলোচনা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইভার্স আইজাবস বলেন, ‘আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এখানে এসেছি। এই সফরে এটাই আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল।’





