Recent event

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, অফ-সিজনে কারা এবং কীভাবে যেতে পারবেন? জেনে নিন

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ | ছবি : সংগৃহীত
0

পর্যটন মৌসুমে (Tourism season) বিরতি দিয়ে গত (রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা ৯ মাসের জন্য পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে গেল প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৯ মাস টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ (Tourist ship) চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং বিশেষ পেশার মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাতায়াতের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।

একনজরে: সেন্টমার্টিন অফ-সিজন ভ্রমণ নির্দেশিকা
ক্যাটাগরি নির্দেশনা (Guidelines)
পর্যটক ভ্রমণ টানা ৯ মাস সম্পূর্ণ বন্ধ।
অনুমতি মাধ্যম ইউএনও অফিস (লিখিত) অথবা 'মাই সেন্টমার্টিন' অ্যাপ।
যাতায়াতের মাধ্যম শুধুমাত্র অনুমোদিত ট্রলার বা বিশেষ সার্ভিস।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পরিচয়পত্র, পেশাগত প্রমাণপত্র ও ভ্রমণের যৌক্তিক কারণ।

আরও পড়ুন:

অফ-সিজনে ভ্রমণের বিশেষ অনুমতি (Special permission for off-season travel)

পর্যটক চলাচল বন্ধ থাকলেও সেন্টমার্টিনের স্থায়ী বাসিন্দা (Local residents) এবং সরকারি দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দ্বীপটিতে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া আরও কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ট্রলারে করে যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন।

কারা পাবেন এই বিশেষ অনুমতি? (Who is eligible for special permission?)

টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নিচের ব্যক্তিরা বিশেষ অনুমতি পেতে পারেন:

  • সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিক (Journalists for news collection)।
  • দ্বীপের নিজস্ব বা লিজ নেওয়া রিসোর্টের মালিক ও কর্মচারী (Resort owners and staff)।
  • জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী (Medical campaign participants)।
  • বিচ ক্লিনিং কার্যক্রমে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবক ও গবেষকরা (Volunteers and researchers for beach cleaning)।
  • সরকারি ও বেসরকারি দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা (Government and private officials)।

সেন্টমার্টিন পর্যটন আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিষয় (Subject) তথ্য ও পরিসংখ্যান (Details)
ভ্রমণ বন্ধের সময়কাল ১ ফেব্রুয়ারি - ৩১ অক্টোবর (৯ মাস)
মোট পর্যটক (২ মাস) ১,১৭,০০০ জন
দৈনিক পর্যটক সীমা সর্বোচ্চ ২,০০০ জন
নিষেধাজ্ঞার কারণ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য (Application process and required info)

অফ-সিজনে সেন্টমার্টিন যেতে হলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে ভ্রমণের যথাযথ কারণ ও প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে ‘মাই সেন্টমার্টিন’ (My Saint Martin) নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমেও এখন আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক প্রমাণিত হলেই কেবল সেন্টমার্টিনে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

সেন্টমার্টিন অফ-সিজন ট্রাভেল গাইড
জিজ্ঞাসা (Inquiry) বিস্তারিত তথ্য (Details)
যাতায়াতের রুট টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট (ট্রলার ও স্পিডবোটের জন্য)।
থাকার ব্যবস্থা রিসোর্ট বুকিং বন্ধ; শুধুমাত্র বিশেষ অনুমোদিত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট রিসোর্টে থাকতে পারবেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বর্ষা ও নিম্নচাপের সময় সমুদ্র উত্তাল থাকে, যা ট্রলারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে বর্তমান নির্দেশনায় পর্যটক বা বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ।
জরুরি যোগাযোগ যেকোনো প্রয়োজনে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড বা টেকনাফ ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করুন।

আরও পড়ুন:

সেন্টমার্টিন অফ-সিজন আপডেট ও জরুরি নির্দেশিকা

পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন বন্ধ থাকলেও যারা বিশেষ প্রয়োজনে যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. যাতায়াত খরচ ও সময় (Travel Cost and Time): অফ-সিজনে কোনো বড় জাহাজ (Ship) চলে না। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হলো কাঠের ট্রলার বা স্পিডবোট। টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক ট্রলার ছাড়ে। পর্যটন মৌসুমের তুলনায় অফ-সিজনে ট্রলারের ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে এবং সমুদ্র উত্তাল থাকলে যেকোনো সময় যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২. রিসোর্ট ও খাবারের সুবিধা (Accommodation and Food): অধিকাংশ বড় রিসোর্ট এই ৯ মাস বন্ধ থাকে। তবে রিসোর্ট মালিক বা কর্মচারীরা যারা অফ-সিজনে অবস্থান করেন, তাদের জন্য সীমিত পরিসরে থাকার ব্যবস্থা থাকে। সাধারণ পর্যটকদের জন্য কোনো রিসোর্ট বুকিং (Resort booking) উন্মুক্ত থাকে না। বাজারে খাবারের দোকানও খুব কম থাকে, তাই অফ-সিজনে গেলে আগেভাগেই দ্বীপের পরিচিত কারও মাধ্যমে ব্যবস্থা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. পরিবেশ সুরক্ষা ও জরিমানা (Environment protection and Fine): অফ-সিজনে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়। প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বা ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে অননুমোদিত প্রবেশ করলে বড় অংকের জরিমানা (Fine) বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভ্রমণ ও পরিবেশ সংক্রান্ত মূল তথ্য (Key Points)
বিষয় (Subject) বিস্তারিত তথ্য (Information)
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সময়কাল ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে টানা ৯ মাস (৩১ অক্টোবর পর্যন্ত)।
পর্যটন মৌসুম ও নিয়ম নভেম্বর-জানুয়ারি (৩ মাস)। নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুমতি ছিল।
পর্যটন পরিসংখ্যান ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
ছেঁড়াদ্বীপ সংক্রান্ত বিধি প্রতিবেশ সংকটাপন্ন ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
নিষিদ্ধ কার্যক্রমসমূহ বারবিকিউ পার্টি, সৈকতে আলোকসজ্জা, মোটরচালিত যান ও শব্দ দূষণ।
প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, স্ট্র এবং শ্যাম্পুর মিনি প্যাক ব্যবহার নিষিদ্ধ।
জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, সামুদ্রিক কাছিম ও কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্ষতি করা দণ্ডনীয়।
সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা দ্বীপ সংলগ্ন ১,৭৪৩ বর্গ কি.মি. এলাকাকে 'সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এসআর