যশোর বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ অনুষ্ঠিত

বেবিচকের মহড়া
বেবিচকের মহড়া | ছবি: সংগৃহীত
0

যশোর বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় এ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বেবিচকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইসিএও স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রিকমেন্ডেড প্র্যাক্টিসেস (সার্পস) জেস ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের (এনসিএএসপি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি ২ বছরের মধ্যে একবার ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ’ আয়োজন করা আবশ্যক। তারই ধারাবাহিকতায় হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

মহড়ায় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিমানটিতে ১০ জন যাত্রী ছিল। উড্ডয়নের ১০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক, যশোরের নিকট একটি বেনামী টেলিফোন কল আসে। যেখানে কলদাতা জানান যে, বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে। তিনি আর কোনো তথ্য না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক, যশোর দ্রুত বিষয়টি কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি যশোর বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানান এবং এয়ারপোর্ট ফায়ার স্টেশনকে স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলেন।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং হুমকিকে বাস্তবসম্মত বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক রিস্ক অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে সম্পূর্ণ বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার (ইওসি) সক্রিয় করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ইওসি বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে অবহিত করে এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।

আর পড়ুন:

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। মহড়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল

যশোর বিমানবন্দরে আয়োজিত এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শুরুতে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সব অংশীজনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নিরাপত্তা মহড়া কেবল সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেই সহায়ক নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

মহড়ার সফলতাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এপিবিএন, আনসার, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এর ফলে সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছিল।’

চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান রানওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রানওয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের বিমান নিরাপদভাবে ওঠানামা করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

মহড়ায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের কর্মকর্তারা, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ।

এসএইচ