গণভোটে জামায়াতের অবস্থান ‘হ্যাঁ’; বিএনপি বলছে ‘বাস্তবায়নই মুখ্য’

ভোটার ও নির্বাচন ভবন
ভোটার ও নির্বাচন ভবন | ছবি: এখন টিভি
0

সরকার প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ‘স্পষ্ট’ হলেও বিএনপি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ‘অবস্থান জানায়নি’। তবে ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করার কথা জানিয়েছে দলটি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ই যথেষ্ট নয়—এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তনও জরুরি।

রক্তরাঙা রাজপথে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা। সেই লক্ষ্যেই ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে মৌলিক ৪৮টি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়। এসব বিষয় ‘জুলাই সনদে’ লিপিবদ্ধ করা হয়, যেখানে ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ফিরে না আসার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ হবে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট। উচ্চকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান সংশোধনে থাকবে কঠোর বিধিনিষেধ। দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীন করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংসদের সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে সরকারি কর্ম কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে নির্দলীয় ও সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনে নিয়োগ হবে দলীয় বিবেচনায় নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

তবে হাজারো প্রাণ ও ২০ হাজারের বেশি আহতের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এখনো পুরোপুরি ‘একমুখী নয়’—এমন অভিযোগও রয়েছে। শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিতে জামায়াতসহ আটটি দল আন্দোলন করলেও পরে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সম্মত হয় তারা। অভিযোগ-আপত্তি থাকলেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। কারণ আমরা সংস্কারের পক্ষে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার ফলেই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট সমর্থন করছি।”

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে বিএনপি গণভোট নিয়ে সরাসরি প্রচারণায় নামবে কি না—এ বিষয়ে দলটির অবস্থান ভিন্ন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘গণভোট নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়, এটি সরকারের দায়িত্ব। জুলাই সনদের অনেক বিষয়ে আমাদের আপত্তি আছে, আবার অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। যেগুলোতে একমত, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করবো। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও দলীয় কর্মসূচিই আমরা জনগণের কাছে তুলে ধরছি।’

রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ছাড়া গণভোটের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি না—এ প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক অবস্থানের কথা বলছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মাদ সাহান বলেন, ‘‘হ্যাঁ’ ভোটে জয় একটি সুযোগ তৈরি করবে। তবে শুধু জয় হলেই সবকিছু বদলে যাবে না। এরপর এর বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।’’

এরই মধ্যে সরকারিভাবে গণভোটের পক্ষে গান, তথ্যচিত্র ও ভ্রাম্যমাণ প্রচারযানের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গণভোটের গুরুত্ব কতটা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে, তা সময়ই বলে দেবে।

এফএস