আজ (সোমবার, ১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’দফা শুনানি শেষে এই আদেশ মঞ্জুর করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলামকে তিনটি কালো মাইক্রোবাসে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে গভীর রাতে যশোর পিকনিক কর্নারের সামনে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তৎকালীন সময়ে পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করে এবং নিহতের পরিবারকে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিহতের ভাই মো. ইমদাদুল হক বাদী হয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন। ওই বছর ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় সেঁজুতিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সাবেক এই সংসদ সদস্যের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, তার মক্কেলকে একের পর এক মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের ২০ মে শহরের রাধানগরের নিজ বাড়ি থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় সেঁজুতিকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১ জুন ও ২৫ জুন আরও দুইটি ভিন্ন মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।’
তিনি জানান, চলতি বছরের ৩ জুন হাইকোর্ট সেঁজুতিকে সবশেষ মামলায় জামিন দেন, যা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। গত ১৩ জুন জামিননামা সম্পাদনের পর কারাগার থেকে মুক্তির আগেই হত্যা মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট করা হয়।
এরপর ২৫ জুন সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলে, ২৯ জুন আবার আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দায়রা জজ আদালত সেই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
কিন্তু আজ নতুন করে জিআর ৪০৩/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় আদালত শোন অ্যারেস্ট মঞ্জুর করায় সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির পথ আবারও বন্ধ হয়ে গেল।





