রাষ্ট্রায়াত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতি নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের রুল

হাইকোর্ট
হাইকোর্ট | ছবি: সংগৃহীত
2

রাষ্ট্রায়াত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা, ২০২৫–এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

আজ (রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রুলে বলা হয়, রিট আবেদনকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে নির্ধারিত পদোন্নতির শর্ত কেন সংবিধানের পরিপন্থি ও আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং আবেদনকারীকে কেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের তারিখ থেকে পদোন্নতি দেয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনকারী মোছা. আফসানা মিমি ঝরনার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম মাহিদুল ইসলাম সজিব।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছর ২০ ডিসেম্বর রিট আবেদনকারী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ড অব ডিরেক্টর্স বরাবর একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন।

রিটে উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারী ২০১৮ সালে কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগদান করেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) প্রবিধানমালা, ২০০৮ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা, ২০১২ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ২০২১ সালের ২৬ জুলাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন।

আরও পড়ুন:

আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগে পর্যন্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়মিতভাবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জারিকৃত পদোন্নতি আদেশসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি করেন, তিনি যে বিধি ও আইনের অধীনে চাকরিতে যোগদান করেছেন, সেই বিধানই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। কিন্তু রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা, ২০২৫ তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করায় তিনি পদোন্নতির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং চাকরিক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে তার চেয়ে জুনিয়র অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে গেছেন।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ২০০৮ সালের প্রবিধানমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মাঠপর্যায়ের এসিআর মূল্যায়নের মানদণ্ডও নতুন অর্থবছরের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া পদোন্নতির ভিত্তিকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের। অথচ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট। বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিক অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর একই পদে দায়িত্ব পালন করার পরও বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আবেদনকারীর জন্য হতাশাজনক ও অন্যায় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

এসএইচ